মহান জাতীয় সংসদে পারস্পরিক দোষারোপ পরিহার করে সবাইকে গঠনমূলক ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি-এর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, “আমরা যদি নিজেদের ভালো করতে পারি, দেশও ভালো হয়ে যাবে।”
বুধবার (২২ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
জরুরি জনগুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ের ওপর নোটিশের প্রেক্ষিতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, বৈশ্বিক অস্থিরতা ও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত সত্ত্বেও সরকার সতর্ক ও দূরদর্শী পদক্ষেপের মাধ্যমে দেশের জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সক্ষম হয়েছে।
বিধি-৬৮-এর সংক্ষিপ্ত আলোচনায় তিনি আরও জানান, সরকার দায়িত্ব গ্রহণের সময় দেশে জ্বালানি তেলের মজুত ছিল মাত্র সাত দিনের। এর মধ্যে ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরু হলে হরমুজ প্রণালি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে, ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।
এ সময় জ্বালানি প্রতিমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে শফিকুর রহমান ব্যক্তিগত একটি ঘটনার কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, যশোরে এক অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী তাকে ‘চাচা’ বলে সম্বোধন করেছিলেন এবং সেখানকার আপ্যায়নের একটি স্মৃতিও তিনি মনে রেখেছেন।
প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যকে ইতিবাচক উল্লেখ করে তিনি বলেন, “তিনি বাস্তবসম্মত কথা বলেছেন। তবে এক জায়গায় সামান্য ইঙ্গিত করেছিলেন, সেটি নিয়ে আমি আলোচনা করতে চাই না।”
তিনি আরও বলেন, সংসদে প্রথম দিন থেকেই তিনি জনকল্যাণে আলোচনা করার আহ্বান জানিয়ে আসছেন। “আমরা যেন একে অপরকে দোষারোপ না করি—এই আহ্বান এখনো পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। তবে আগের তুলনায় কিছুটা কমেছে। আমাদের উচিত গঠনমূলক হওয়া—সরকারি দল ও বিরোধী দল উভয়েরই।”
জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি বর্তমান সরকারের সৃষ্ট নয়, তবে চাহিদা ব্যবস্থাপনায় কিছু ঘাটতি রয়েছে। “আমরা যদি খোলামেলা আলোচনা করে একটি অভিন্ন প্ল্যাটফর্ম থেকে সমস্যার সমাধান করতাম, তাহলে মানুষের মধ্যে আস্থা তৈরি হতো।”
‘সুযোগসন্ধানী অসৎ চক্র’ সম্পর্কে সতর্ক করে তিনি বলেন, সংকটময় পরিস্থিতিতে কিছু অসাধু ব্যক্তি সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করে। “আমি নিজেও যদি তেমন কেউ হই, আমাকেও ছাড় দেওয়া হবে না, জাতির স্বার্থে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।”
তিনি জোর দিয়ে বলেন, অসৎ লোক কোনো দলের হতে পারে না; তারা কেবল দলের সুযোগ নেয় এবং সংকটে সবার আগে পালিয়ে যায়। এ ধরনের ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সবশেষে তিনি বলেন, সংসদে দায়িত্বশীল ও সত্যভিত্তিক বক্তব্য দেওয়া জরুরি। “আজ এক কথা, কাল আরেক কথা বললে জনগণ আস্থা হারাবে। কথার ধারাবাহিকতা ও বাস্তব প্রয়োগ থাকলে জনগণের বিশ্বাস অর্জন করা সম্ভব।”
