হাম পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ যথাযথ গুরুত্ব পাচ্ছে না স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে। ১২ এপ্রিল অনুষ্ঠিত যৌথ সভা থেকে বহুপক্ষীয় একটি কমিটি গঠনসহ বেশ কিছু জরুরি সুপারিশ করা হলেও সেগুলোর বাস্তবায়ন এখনো দৃশ্যমান নয়।
২৩ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, বিশেষজ্ঞদের কমিটি গঠনের সুপারিশ সম্পর্কে তিনি অবগত নন এবং এখনো তাকে তা জানানো হয়নি।
মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহে দেশে হামের প্রাদুর্ভাব বাড়ার পর ১২ এপ্রিল দুই বিশেষজ্ঞ কমিটির প্রথম যৌথ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন টিকাবিষয়ক জাতীয় কারিগরি কমিটি নাইট্যাগের চেয়ারপারসন বিশিষ্ট বিজ্ঞানী ফিরদৌসী কাদরী। স্বাধীনভাবে সরকারকে পরামর্শ দেওয়া এই কমিটির সদস্য সংখ্যা ১৫ জন এবং সর্বশেষ কমিটি গঠিত হয় ২০২৫ সালের ৩০ জুলাই।
সভায় প্রস্তাব করা হয়, শিশুস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, রোগতত্ত্ববিদ, ভাইরাস ও ল্যাবরেটরি বিশেষজ্ঞসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে একটি বহুপক্ষীয় কমিটি গঠন করতে হবে, যা রোগ শনাক্তকরণে অগ্রাধিকার নির্ধারণ ও প্রমাণভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করবে। তবে এখনো এ কমিটি গঠন করা হয়নি।
এই সভায় নাইট্যাগের পাশাপাশি হাম–রুবেলা নির্মূল পরিস্থিতি মূল্যায়নকারী এনভিসির প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। এনভিসি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আঞ্চলিক কমিশনকে তথ্য জানানো ও সরকারকে পরামর্শ দেওয়ার কাজ করে।
যৌথ সভার আগেই ৫ এপ্রিল থেকে দেশের ৩০টি উচ্চঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় টিকাদান শুরু হয় এবং ১২ এপ্রিল থেকে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণসহ চারটি সিটি করপোরেশনে তা সম্প্রসারিত হয়। তবে সভায় টিকাদান কার্যক্রমের কঠোর পর্যবেক্ষণ, কার্যকর পরিকল্পনা এবং যোগাযোগ জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হলেও বাস্তবে তার অগ্রগতি স্পষ্ট নয়।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও ইপিআই কার্যক্রমে সক্রিয়তার ঘাটতি রয়েছে। এমনকি স্বাস্থ্যমন্ত্রী নিজেই বিশেষজ্ঞদের সুপারিশ সম্পর্কে অবগত নন—এটিকে তারা উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন।
অন্যদিকে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী দাবি করেছেন, সরকার ইতোমধ্যে অনেক পদক্ষেপ নিয়েছে এবং বিশেষজ্ঞদের সুপারিশ অনুযায়ী কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
তবে আইসোলেশন নীতিমালা নির্ধারণ বা কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিশুদের টিকাদানসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এখনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। জনস্বাস্থ্যবিদ আবু জামিল ফয়সাল বলেন, পুরো পরিস্থিতিতে সমন্বয় ও যোগাযোগের ঘাটতি স্পষ্ট, যা চলমান জরুরি অবস্থায় অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
