অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, বিগত সরকারের আমলে আর্থিক খাতের চরম রাজনীতিকীকরণের ফলে দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো বর্তমানে ‘খালি’ হয়ে গেছে। শনিবার সচিবালয়ে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) সঙ্গে প্রাক-বাজেট আলোচনায় তিনি বলেন, ব্যাংক ও বেসরকারি খাত উভয়ই এখন মূলধন সংকটে (আন্ডার ক্যাপিটালাইজড) ভুগছে। অর্থনীতির এই ভঙ্গুর দশা কাটিয়ে উঠতে ফিন্যান্সিয়াল সেক্টরে বড় ধরনের সংস্কার বা রেজুলেশন প্রয়োজন।
অর্থমন্ত্রী বর্তমান পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে বলেন, মুদ্রার ৪০ শতাংশ অবমূল্যায়ন এবং ১৪ শতাংশ মূল্যস্ফীতির কারণে ব্যবসায়ীদের কার্যকর পুঁজি বা ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল শেষ হয়ে গেছে। অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান এখন সক্ষমতার চেয়ে কম উৎপাদন করছে, যার ফলে কর্মসংস্থান কমছে। তবে সরকারের তহবিলে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় কেবল সরকারি সহযোগিতা দিয়ে এই বিশাল মূলধন ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
দেশের অর্থনীতি অলিগার্ক বা বিশেষ প্রভাবশালী মহলের নিয়ন্ত্রণে চলে গিয়েছিল বলে অভিযোগ করেন আমির খসরু। তিনি বলেন, পৃষ্ঠপোষকতার রাজনীতির মাধ্যমে দেশের সম্পদ কিছু লোকের হাতে কুক্ষিগত হওয়ায় নীতিনির্ধারণী পর্যায়েও তার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এই অবস্থা থেকে উত্তরণে রাজনীতির পাশাপাশি অর্থনীতির ‘গণতান্ত্রিকায়ন’ জরুরি। প্রান্তিক মানুষের সেবা নিশ্চিত করতে সরকার ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষি কার্ডের ওপর জোর দিচ্ছে বলে তিনি জানান।
উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকার বর্তমানে কঠোর মুদ্রানীতি অনুসরণ করছে। অর্থমন্ত্রী ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান উভয়েই বাজার থেকে টাকা ছাপিয়ে সরকারকে ঋণ দেওয়ার খবরকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। অর্থমন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, টাকা ছাপিয়ে স্থানীয় ব্যাংক থেকে ঋণ নিলে সুদের হার বাড়ে এবং বেসরকারি খাত চাপে পড়ে, যা অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর। সরকার বরং বাজারে মুদ্রার সরবরাহ সীমিত রেখে স্থিতিশীলতা ফেরাতে কাজ করছে।
