ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী মুনিরা মাহজাবিন মিমোর (২৬) ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারের ঘটনায় ওই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সুদীপ চক্রবর্তীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রোববার সকালে রাজধানীর বাড্ডার বাসা থেকে মিমোর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বিকালে নিহতের বাবা বাড্ডা থানায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করলে পুলিশ ওই শিক্ষককে গ্রেফতার দেখায়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মিমোর কক্ষের দরজা ভেঙে ফ্যানের সঙ্গে তাঁর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করেছে পুলিশ, যেখানে সুদীপ চক্রবর্তীকে ৫০ হাজার টাকা দেওয়া এবং তাঁর দেওয়া উপহারগুলো ফেরত দেওয়ার কথা উল্লেখ ছিল। এছাড়া মিমোর সহপাঠী উম্মে হানি ও সুদীপ চক্রবর্তীকে ভালো থাকার কথা লিখে গেছেন তিনি।
তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, আত্মহত্যার আগে শনিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে শিক্ষক সুদীপ চক্রবর্তীর সঙ্গে প্রায় ছয় মিনিট ভিডিও কলে কথা বলেছিলেন মিমো। তবে ওই শিক্ষক তাঁর ফোনের কল হিস্ট্রি ডিলিট করে দিয়েছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। মিমোর ফোনের প্রাথমিক তথ্য বিশ্লেষণ করে ওই শিক্ষকের সঙ্গে মিমোর মানসিক ও ব্যক্তিগত সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
বিভাগের চেয়ারম্যান কাজী তামান্না হক সিগমা এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা সবাই এই মর্মান্তিক মৃত্যুতে শোকাচ্ছন্ন। পুলিশ মিমোর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। নিহতের পরিবার ও সহপাঠীরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক ন্যায়বিচার দাবি করেছেন।
