দেশের বন্ধ হয়ে যাওয়া সরকারি কলকারখানাগুলো পুনরায় সচল করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সোমবার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিডা ভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (পিপিপি) ভিত্তিতে এসব শিল্প প্রতিষ্ঠানকে আবার পুনরুজ্জীবিত করা হবে।
বিডা চেয়ারম্যানের মতে, দেশের অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা কেটে পরিস্থিতি ইতিবাচক ধারায় ফিরতে শুরু করলেও বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এখনো প্রত্যাশিত সাড়া পাওয়া যায়নি। বিনিয়োগের এই স্থবিরতা কাটাতে এবং শিল্পায়ন ত্বরান্বিত করতে এখন কাজের ধরনে ‘গিয়ার শিফট’ বা আমূল পরিবর্তন আনা জরুরি হয়ে পড়েছে। মূলত দেশি-বেসরকারি খাতের সংমিশ্রণে বন্ধ কারখানাগুলো চালু করাই সরকারের বর্তমান অগ্রাধিকার।
জাতিসংঘের বাণিজ্য উন্নয়ন সংস্থা আঙ্কটাড ও বিডার যৌথ পর্যালোচনা প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বাংলাদেশে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের (এফডিআই) চিত্রটি বেশ উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ২০১৯ সালে বিনিয়োগের পরিমাণ ১ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন ডলার থাকলেও বৈশ্বিক অস্থিতিশীলতার প্রভাবে ২০২৪ সালে তা কমে ১ দশমিক ২৬ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে। তবে ২০২৫ সালে বিনিয়োগ পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হয়ে ১ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, সামগ্রিক বিনিয়োগ বাড়লেও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় মাথাপিছু বিনিয়োগের হারে বাংলাদেশ এখনো বেশ পিছিয়ে আছে। এই ঘাটতি পূরণে বিনিয়োগ নীতিমালার সংস্কার ও বন্ধ শিল্প ইউনিটগুলো সচল করার মাধ্যমে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির ওপর জোর দিচ্ছে সরকার।
