কুড়িগ্রামের রাজারহাটে দেয়াল লিখন ও ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে ইসলামী ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। রোববার দুপুরে ছাত্রদলের হামলায় শিবিরের দুই নেতা আহত হওয়ার পর বিকেলে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়াপাল্টা ধাওয়া হয়। এর জেরে রাতে উপজেলা জামায়াতের কার্যালয়ে বিএনপি ও ছাত্রদল নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে এক শিবির কর্মীসহ অন্তত ৬ জন আহত হয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুপুরে রাজারহাট উপজেলা পশ্চিম থানা শিবিরের সভাপতি সুজন মিয়া ও কুড়িগ্রাম জেলা স্কুল বিভাগের বায়তুল মাল সম্পাদক মাহিন মিয়ার ওপর হামলা চালায় ছাত্রদল কর্মীরা। হামলায় সুজনের মাথা ফেটে গেলে তাঁকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানেও হামলার আশঙ্কায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা ছাত্রদলকে ধাওয়া দেয়। পরে নিরাপত্তা বিবেচনায় আহত শিবির নেতাকে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
ঘটনার প্রতিবাদে রোববার সন্ধ্যায় জামায়াত-শিবির বিক্ষোভ মিছিল বের করে দলীয় কার্যালয়ে অবস্থান নেয়। এর কিছুক্ষণ পর বিএনপি ও ছাত্রদল পাল্টা মিছিল বের করলে উত্তজনা চরমে পৌঁছায়। অভিযোগ উঠেছে, মিছিলটি জামায়াত কার্যালয়ের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় একদল নেতাকর্মী রেললাইনের পাথর ছুড়তে শুরু করে। পাথরের আঘাতে হাবিবুর রহমান নামে এক শিবির কর্মীর মাথা ফেটে যায় এবং আরও কয়েকজন আহত হন।
উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট আহমদ আলী এই ঘটনাকে ‘ফ্যাসিস্ট আচরণ’ হিসেবে অভিহিত করে বিচার দাবি করেছেন। অন্যদিকে উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম জানান, প্রতিপক্ষের উসকানির ফলে উত্তেজিত কিছু নেতাকর্মী মিছিল থেকে পাথর ছুড়েছে। তবে রাজনৈতিক সহাবস্থান নিশ্চিত করতে জেলা নেতৃবৃন্দ জরুরি বৈঠক করেছেন এবং সোমবারের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রাজারহাট থানা পুলিশ জানিয়েছে, বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
