দেশের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী ও উন্নত করতে সরকার ব্যাপক ও সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানান, দেশের বিমানবন্দরগুলোতে ইতোমধ্যে সামগ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হলেও সেবার মান আরও বাড়াতে বাংলাদেশ পুলিশ বিভিন্ন আধুনিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।
আজ সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, বিমানবন্দরের প্রবেশ ও প্রস্থান পথসহ গুরুত্বপূর্ণ সব পয়েন্টে চেকপোস্ট স্থাপন এবং পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে। যেকোনো ধরনের নাশকতা প্রতিরোধে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কার্যকর ও বহু স্তর বিশিষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু রাখা হয়েছে।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের ওপর জোর দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পুরো এলাকা সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে এবং আধুনিক স্ক্যানিং মেশিনের সাহায্যে নিষিদ্ধ বস্তুর প্রবেশ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। এছাড়া পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থা ও বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধির মাধ্যমে তথ্য বিনিময়ের ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা হয়েছে।
যাত্রীদের সুবিধা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক ব্যাগেজ সিস্টেম, ইমিগ্রেশন কাউন্টার বৃদ্ধি এবং দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের জন্য ‘বডি ওর্ন’ ক্যামেরা ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জরুরি পরিস্থিতি ও সাইবার নিরাপত্তা মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট কর্মীদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলেও তিনি সংসদকে অবহিত করেন।
বিমানবন্দরে যাত্রী হয়রানি বন্ধে কঠোর নজরদারির পাশাপাশি সাধারণ যাত্রীদের দ্রুত সহায়তার জন্য বিশেষ ‘হেল্প ডেস্ক’ স্থাপন করা হয়েছে। চুরি ও ছিনতাই প্রতিরোধে পুলিশি নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে সামগ্রিক পরিবেশ নিরাপদ রাখার সব ধরনের প্রস্তুতি সরকারের রয়েছে বলে মন্ত্রী উল্লেখ করেন।
