জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমানের দেওয়া একটি বক্তব্য নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। তিনি দাবি করেন যে, ৫ আগস্টের পরবর্তী সময়ে শিল্পকলা একাডেমিসহ দেশের কোথাও কোনো নাটক, গান বা লালনগীতি হতে পারেনি এবং একটি ‘কালো শক্তি’ সবকিছু ধ্বংস করে দিয়েছে। তবে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, তাঁর এই দাবির সঙ্গে বাস্তব তথ্যের ব্যাপক অমিল রয়েছে।
বাস্তব চিত্র ও বিভিন্ন তথ্যসূত্র থেকে জানা যায়, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়েও শিল্পকলা একাডেমিতে নিয়মিত নাটক মঞ্চস্থ হয়েছে। ডিসেম্বর ২০২৪ থেকে ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত অসংখ্য নাটকের সফল প্রদর্শনী হয়েছে। এমনকি লালন সাঁইয়ের তিরোধান দিবসকে প্রথমবারের মতো জাতীয় দিবস হিসেবে ঘোষণা করে দেশের প্রতিটি জেলায় পালন করা হয়েছে। বিজয় দিবস উপলক্ষেও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিশাল কনসার্ট এবং জেলাগুলোতে যাত্রা উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে।
সাবেক সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী জানিয়েছেন, শিল্পকলা একাডেমির উদ্যোগে বাউলদের নিয়ে সাধুসঙ্গ, সব ধর্মের উৎসবকেন্দ্রিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং জুলাই বিপ্লব স্মরণে দেশজুড়ে ২১ দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিজয় দিবসের কনসার্টে প্রায় ৮০ হাজার মানুষের সমাগম হয়েছিল। এসব তথ্য প্রমাণ করে যে, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার দাবিটি সঠিক নয়।
তবে এই সময়ে দেশের কিছু স্থানে সাংস্কৃতিক আয়োজনে বাধা ও অপ্রীতিকর ঘটনার খবরও পাওয়া গেছে। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জ ও ফরিদপুরে মাজার এবং লালন মেলায় হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। শিল্পকলা একাডেমিতে একটি নাটক চলাকালীন বিক্ষোভের মুখে প্রদর্শনী বন্ধ করার ঘটনাও ঘটেছিল। এছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে শিল্পকলা একাডেমির অবকাঠামোতে ভাঙচুর ও লুটপাটের খবর পাওয়া গেছে।
সাংস্কৃতিক কর্মীদের ওপর এ ধরনের হামলা বা বাধা দেওয়ার ঘটনা বাংলাদেশে নতুন নয়; এটি বিভিন্ন সরকারের আমলেই কমবেশি ঘটেছে। সংসদ সদস্য ফজলুর রহমান তাঁর দাবির সপক্ষে মামুনুর রশীদের মতো নাট্যব্যক্তিত্বদের দেশত্যাগের প্রসঙ্গ টানলেও জানা গেছে, তিনি মূলত চিকিৎসার জন্য বিদেশ গিয়েছিলেন এবং বর্তমানে দেশেই আছেন। সংসদের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় দেওয়া বক্তব্যের এমন বৈপরীত্য নিয়ে জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।
