সরকারের দৈনন্দিন খরচ মেটাতে ব্যাংকঋণের ওপর নির্ভরতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। অর্থবছরের ১২ মাসের জন্য নির্ধারিত ব্যাংকঋণের লক্ষ্যমাত্রা ৯ মাসেই অতিক্রম করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত সরকার ব্যাংকব্যবস্থা থেকে ১ লাখ ৮ হাজার ৯৮৫ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে, যেখানে পুরো বছরের লক্ষ্য ছিল ১ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা।
আশানুরূপ রাজস্ব আদায় না হওয়ায় এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে মন্দার কারণে সরকার এই বিশাল ঘাটতির মুখে পড়েছে। পরিস্থিতি এতটাই জটিল যে, সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও সুদ পরিশোধের মতো নিয়মিত খরচ মেটাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে টাকা ছাপিয়েও ঋণের জোগান দিতে হয়েছে। তবে গত এপ্রিল মাসে সরকার ঋণের পরিমাণ কিছুটা কমিয়ে তা ৯৪ হাজার কোটি টাকার ঘরে নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে।
বেশি মাত্রায় ব্যাংকঋণ নেওয়ার ফলে দেশের অর্থনীতিতে বহুমুখী চাপের সৃষ্টি হচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে টাকা ছাপিয়ে ঋণ নিলে বাজারে মুদ্রা সরবরাহ বেড়ে মূল্যস্ফীতি দেখা দেয়, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে দেয়। অন্যদিকে, বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে সরকার বেশি ঋণ নিলে বেসরকারি উদ্যোক্তারা বিনিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ পান না, ফলে কর্মসংস্থানের সুযোগ কমে যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংকট থেকে উত্তরণে রাজস্ব আদায়ের সক্ষমতা বাড়ানো এবং কর ফাঁকি রোধ করার কোনো বিকল্প নেই। পাশাপাশি উন্নয়ন প্রকল্পে অপচয় কমানো, অপ্রয়োজনীয় ব্যয় ছাঁটাই এবং লোকসানি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে ভর্তুকি কমিয়ে বাজেট ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফেরানো জরুরি। অন্যথায় ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধের চাপ শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতের বরাদ্দকে সংকুচিত করে ফেলবে।
