জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, জামায়াতে ইসলামী মহান স্বাধীনতা সংগ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের শ্রদ্ধার সঙ্গে ধারণ ও সম্মান করে। স্বাধীনতার পর সংগঠনের নীতি ও পদ্ধতিতে অনেক পরিবর্তন এসেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পাকিস্তান আমলের সেই জামায়াত আর বর্তমানের জামায়াত এক নয়। শুক্রবার সকালে কুমিল্লা টাউন হল মাঠে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি জানান, জামায়াতের গঠনতন্ত্র ও সদস্য পদ লাভের শর্তাবলীতে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আত্মত্যাগের স্বীকৃতির বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। কোনো ব্যক্তি বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংগ্রাম ও আত্মত্যাগকে সম্মান না জানালে সংগঠনের সদস্য হতে পারবেন না। বহুবার গঠনতন্ত্র ও নীতি পরিবর্তনের মাধ্যমে আধুনিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে জামায়াত নিজেকে নতুনভাবে সাজিয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
সংসদের সমাপনী অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্যে ঐক্যের সুর লক্ষ্য করা গেছে জানিয়ে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, তাঁরা এখন অতীত ভুলে সামনে এগিয়ে যেতে চান। এতে নতুন প্রজন্ম একটি সুন্দর ইতিহাস পাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তবে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (সংশোধনী) বিল-২০২৬-এর কিছু বিষয়ের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এটি জাতিকে বিভক্ত করার একটি দূরভিসন্ধিমূলক চেষ্টার অংশ হতে পারে।
ইসলামী শ্রমনীতি প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, সমাজতন্ত্র বা পশ্চিমা গণতন্ত্রে শ্রমিকদের অধিকারের কথা বলা হলেও বাস্তবে তা প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তাঁর মতে, ইসলামী শাসন ব্যবস্থা ছাড়া প্রকৃত শ্রমনীতি বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। সমাবেশে তিনি উল্লেখ করেন, সংবিধান ও রাজনৈতিক সংস্কারের পর একটি মহল যখন পুরোনো বিতর্ক জিইয়ে রাখতে চায়, তখন বুঝতে হবে সেটি দেশপ্রেম নয় বরং বিদেশি ষড়যন্ত্রের অংশ।
শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কুমিল্লা মহানগরী সভাপতি অধ্যাপক রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে এই সমাবেশে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের অনেক শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করতে এবং দেশে ইসলামী আদর্শের ভিত্তিতে সুশাসন প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান।
