ঢাকা আইনজীবী সমিতির ২০২৬-২০২৭ মেয়াদের কার্যকরী কমিটির নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি কম হওয়ার পেছনে রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও প্রতিকূল আবহাওয়াকে দায়ী করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার আলহাজ মোহাম্মদ বোরহান উদ্দিন। শুক্রবার (১ মে) বিকেলে নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে তিনি জানান, রাষ্ট্র কর্তৃক নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের অনুসারীদের ভোটদানে বিরত থাকা এবং গত দুই দিনের বৃষ্টির কারণে কাঙ্ক্ষিত ভোটার পাওয়া যায়নি।
কমিশনারের মতে, আইনজীবীদের একটি বড় অংশ যাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বর্তমানে নিষিদ্ধ, তাদের শীর্ষ নেতা ও কর্মীরা ভোট দিতে না আসায় উপস্থিতিতে প্রভাব পড়েছে। তবে তিনি দাবি করেন, বিগত বছরগুলোর তুলনায় এবার ভোট কাস্টিং খুব একটা কম নয়। বিশেষ করে দ্বিতীয় দিনে আবহাওয়া কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায় আইনজীবীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ দেখা গেছে।
এবারের নির্বাচনে মোট ২০ হাজার ৭৮৫ জন ভোটারের মধ্যে ৭ হাজার ৬৯ জন বা প্রায় ৩৪ শতাংশ আইনজীবী তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এই নির্বাচনকে অত্যন্ত সুন্দর, অংশগ্রহণমূলক এবং গ্রহণযোগ্য হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাঁর দাবি, সকল প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও নির্বাচন ছিল নিরপেক্ষ এবং এ পর্যন্ত কোনো পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি।
গত ২৯ ও ৩০ এপ্রিল অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে ২৩টি পদের বিপরীতে ৫৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম সমর্থিত ‘নীল প্যানেল’ এবং জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত ‘সবুজ প্যানেল’ পূর্ণাঙ্গ প্যানেল দিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছে। এছাড়া সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ বিভিন্ন পদে ৮ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী লড়াই করছেন।
উল্লেখ্য, এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত কোনো প্যানেল অংশ নিতে পারেনি। নীল ও সবুজ প্যানেল উভয়ই নিজেদের নিরঙ্কুশ জয়ের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে। এখন ভোট গণনা শেষে ফলাফলের অপেক্ষায় রয়েছেন সাধারণ আইনজীবীরা।
