যশোরের মণিরামপুরে নিলামে কেনা মাটি বিক্রির টাকা ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের ওপর বিএনপির নেতাকর্মীদের হামলার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার রাতে মণিরামপুর বাজার এলাকায় এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয়ে ভাঙচুর চালানো হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও আহতদের সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আহসান হাবিব লিটন ও নায়েবে আমির মহিউল ইসলাম দলীয় কার্যালয়ের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় বিএনপির একটি মিছিল থেকে তাঁদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। এই সংঘর্ষে জামায়াতের শীর্ষ নেতৃবৃন্দসহ উভয়পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। গুরুতর আহতদের যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে গতকাল শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে জামায়াতে ইসলামী। স্থানীয় সংসদ সদস্য গাজী এনামুল হকের নেতৃত্বে এই মিছিলে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন। সমাবেশ থেকে এমপি এনামুল হক হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, জামায়াতকে দুর্বল ভাবলে ভুল হবে। অতীতে যারা জামায়াতকে নির্মূল করতে চেয়েছিল, তারা দেশ থেকে পালিয়েছে।
বিক্ষোভ সমাবেশে সংসদ সদস্য গাজী এনামুল হক আরও বলেন, চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসী বাহিনী লেলিয়ে দিয়ে জামায়াতের নিরীহ কর্মীদের ওপর এই ন্যাক্কারজনক হামলা চালানো হয়েছে। তিনি প্রশাসনকে আগামী ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়ে বলেন, এই সময়ের মধ্যে দোষীদের আটক করে বিচারের আওতায় না আনলে জনগণকে সাথে নিয়ে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
বর্তমানে মণিরামপুর এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। মণিরামপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) বদরুজ্জামান জানিয়েছেন, পরিস্থিতি এখন পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
