মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার গয়েশপুর ইউনিয়নের চরজোকা গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মসজিদের ভেতরে ঢুকে প্রতিপক্ষের ওপর হামলার এক নজিরবিহীন ও রক্তক্ষয়ী ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার জুমার নামাজের পর ৯নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম সাচ্চু এবং সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হাবিবুর রহমান দুলুর সমর্থকদের মধ্যে এই সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সূত্রপাত হয় শুক্রবার দুপুরে যখন মাঠের মধ্যে লাল্টু শেখ নামে এক কৃষককে একা পেয়ে দুলু গ্রুপের লোকজন কুপিয়ে জখম করে। এর জেরে সাচ্চু গ্রুপের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে চরজোকা পশ্চিমপাড়া মসজিদের সামনে অবস্থান নেয়। জুমার নামাজ শেষে দুলু সমর্থিত মুসল্লিরা হামলার ভয়ে মসজিদের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ করে দিলেও রক্ষা পাননি। হামলাকারীরা মসজিদের দেয়াল ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়ে এবং সেখানে থাকা মোক্তার শেখ, দুলাল মণ্ডল ও রেজাউল শেখকে কুপিয়ে জখম করে।
আহতদের মধ্যে মোক্তার শেখ ও রেজাউল শেখের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এছাড়া আরও দুজনকে মাগুরা ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।
অভিযুক্ত বিএনপি নেতা মিনহাজুল ইসলাম সাচ্চু মসজিদে ঢুকে হামলার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, লাল্টু শেখকে কুপিয়ে জখম করায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে দুই পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয় এবং প্রতিপক্ষের লোকজন আহত অবস্থায় মসজিদের ভেতরে ঢুকে পড়তে পারে। অন্যদিকে, হাবিবুর রহমান দুলু দাবি করেছেন, রাজনৈতিক ও সামাজিক বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে পবিত্র মসজিদের ভেতরে এই নৃশংস হামলা চালানো হয়েছে।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান জানিয়েছেন, খবর পাওয়ার পরপরই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।
