বিগত ১৬ বছরে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের ওপর চালানো দমন-পীড়নের ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে সাম্প্রতিক এক পর্যালোচনায়। এই দীর্ঘ সময়ে দলটির শত শত নেতাকর্মী গুম ও খুনের শিকার হওয়ার পাশাপাশি অসংখ্য মানুষ পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন এবং লাখ লাখ নেতাকর্মীকে রাজনৈতিক মামলায় জেল খাটতে হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
২০১৩ সালের ডিসেম্বরের ঘটনাগুলোকে এই জুলুমের অন্যতম উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই বছরের ১৪ ডিসেম্বর নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে পুলিশের গুলিতে আটজন শিবির কর্মী প্রাণ হারান। এর ঠিক আগের দিন দিবাগত রাতে লক্ষ্মীপুরে নিজ বাসভবন থেকে জামায়াত নেতা ডা. ফয়েজ আহম্মদকে ধরে নিয়ে বাড়ির ছাদে গুলি করে এবং পরে ছাদ থেকে ফেলে দিয়ে হত্যা করা হয়।
অভিযোগে বলা হয়েছে, এসব হত্যাকাণ্ড ও দমন-পীড়ন চালানো হয়েছে মূলত ভারতীয় মদদপুষ্ট ফ্যাসিবাদী শক্তির মাধ্যমে প্রতিবাদ দমনের উদ্দেশ্যে। বিরোধী মতের ওপর এমন নৃশংস আচরণ বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে এক কালো অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে।
বর্তমানে জামায়াত ও শিবিরের নেতাকর্মীরা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দ্বারা নানাভাবে ‘ট্যাগিং’-এর শিকার হচ্ছেন বলেও দাবি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশের রাজনীতিতে এমন ‘নোংরামি’ ও নেতিবাচক চর্চা অব্যাহত থাকলে সুস্থ ও ইতিবাচক ধারার রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়।
