যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরান হামলার প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়ে উঠেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের ওপর। লস অ্যাঞ্জেলেসের মতো শহরগুলোতে পাম্পে তেল নিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। যুদ্ধের আগে একটি পিকআপ ট্রাকের ট্যাঙ্ক ভরতে যে খরচ হতো, এখন তার চেয়ে প্রায় ৩০ ডলার বেশি গুনতে হচ্ছে চালকদের।
যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমান জ্বালানির দাম ২০২২ সালের শুরুর দিকের রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেছে। গত ফেব্রুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে ইরানে হামলা শুরু হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। জবাবে ইরান বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক পথ ‘হরমুজ প্রণালি’ বন্ধ করে দেওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ সংকটে পড়ে এই নজিরবিহীন মূল্যবৃদ্ধি ঘটেছে।
ক্যালিফোর্নিয়ায় প্রতি গ্যালন জ্বালানির দাম ৪.৫০ ডলার থেকে বেড়ে ৬ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। জ্বালানির এই বাড়তি দামের কারণে পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় হু হু করে বাড়ছে নিত্যপণ্যের দামও। সাধারণ জীবনযাত্রার ব্যয় কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়ায় ভোটারদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে, বিশেষ করে যারা খরচ কমানোর প্রতিশ্রুতি দেখে ট্রাম্পকে ভোট দিয়েছিলেন।
যদিও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করে আসছেন যে, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র থেকে দূরে রাখতে এই হামলা জরুরি ছিল এবং এটি স্বল্পমেয়াদী হবে; তবে বাস্তব পরিস্থিতি ভিন্ন। মার্কিন সামরিক শক্তি থাকা সত্ত্বেও হরমুজ প্রণালি অবরোধ হওয়ায় বিশ্ব বাণিজ্যের এক-পঞ্চমাংশ তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। সাধারণ আমেরিকানরা এই যুদ্ধকে অপ্রয়োজনীয় বলে অভিহিত করছেন এবং প্রেসিডেন্টের কঠোর সমালোচনা করছেন।
