প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেওয়া আর্থিক বোনাস থেকে কাবাডি খেলোয়াড়দের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে কাবাডি ফেডারেশনের বিরুদ্ধে। এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ ও নারী বিশ্বকাপ কাবাডিতে ব্রোঞ্জজয়ী ১৫ জন নারী খেলোয়াড়ের প্রত্যেকের বোনাস থেকে ১০ শতাংশ হারে অর্থ কেটে নেওয়ার এই প্রক্রিয়া নিয়ে ক্রীড়াঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে।
গত বছর ইরানের তেহরানে এশিয়ান কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপ এবং মিরপুরে অনুষ্ঠিত নারী বিশ্বকাপ কাবাডিতে ব্রোঞ্জ জিতে দেশের মুখ উজ্জ্বল করেন রুপালি আক্তার ও শ্রাবণী মল্লিকরা। এই সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ গত মার্চে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রত্যেক খেলোয়াড়কে দুই লাখ টাকা করে বোনাস প্রদান করেন। তবে খেলোয়াড়দের অভিযোগ, ফেডারেশনের কর্তারা খেলোয়াড়, রেফারি ও জাজদের কল্যাণ তহবিল গঠনের নামে প্রত্যেকের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা করে জমা দিতে বাধ্য করছেন।
পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন খেলোয়াড় ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, অনেক খেলোয়াড়ের পরিবার চরম অর্থকষ্টে দিনাতিপাত করে এবং এই বোনাসের টাকা দিয়ে তারা ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সমস্যা মেটানোর স্বপ্ন দেখেছিলেন। ফেডারেশনের নিজস্ব অর্থায়নে এই তহবিল গঠন না করে খেলোয়াড়দের সামান্য উপার্জনে কেন ভাগ বসানো হচ্ছে, তা নিয়ে খেলোয়াড়দের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে।
ফেডারেশনের কোষাধ্যক্ষ মাসুদুর রহমান চুন্নু এই অর্থ সংগ্রহের বিষয়টি স্বীকার করে দাবি করেছেন যে এটি একটি পুরনো রীতি। তবে সাবেক কর্মকর্তারা এই দাবি নাকচ করে দিয়ে জানিয়েছেন, অতীতে রেফারিদের কাছ থেকে নির্দিষ্ট অর্থ নেওয়া হলেও খেলোয়াড়দের বোনাস থেকে টাকা নেওয়ার কোনো নজির নেই। সাবেক ক্রীড়া সংগঠক ও ফুটবলাররা এই ঘটনাকে ‘ন্যক্কারজনক’ ও ‘ঘৃণ্য’ কাজ হিসেবে অভিহিত করে উষ্মা প্রকাশ করেছেন।
