যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইসরায়েল। ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের মতে, এই সমঝোতা ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং আঞ্চলিক প্রক্সি নেটওয়ার্ক মোকাবিলায় ইসরায়েলের দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হবে। তাঁরা আশঙ্কা করছেন, চুক্তির ফলে ইরানের বিশাল ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার অক্ষত থেকে যাবে এবং দেশটি পুনরায় বিপুল অর্থনৈতিক সুবিধা লাভ করবে।
ইসরায়েলের অন্যতম বড় ভীতি হলো, এই ধরনের আন্তর্জাতিক সমঝোতা লেবাননসহ পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে তাদের সামরিক অভিযানের স্বাধীনতাকে সংকুচিত করতে পারে। অনেক সামরিক ও রাজনৈতিক কর্মকর্তা মনে করছেন, চুক্তির শর্তাবলি কার্যকর হলে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর সক্ষমতা অনেকটা ‘হাত-পা বাঁধা’ অবস্থায় পড়বে, যা দেশটিকে অনিরাপদ করে তুলতে পারে।
সম্ভাব্য চুক্তিতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে যদি মাত্র ১৫ বছরের সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়, তবে সেটি ইসরায়েলের জন্য চরম উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াবে। এক ইসরায়েলি কর্মকর্তা একে ওবামা আমলের পারমাণবিক চুক্তির সঙ্গে তুলনা করে প্রশ্ন তুলেছেন, এই মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ইরানকে আবার পারমাণবিক অস্ত্রের পথে ফিরে যাওয়া থেকে কীভাবে রোখা সম্ভব হবে?
সার্বিকভাবে, ইসরায়েলি নীতিনির্ধারকরা এই সম্ভাব্য চুক্তিকে ‘ইসরায়েলের জন্য ভয়াবহ’ বলে বর্ণনা করছেন। তাঁদের মতে, এটি কেবল সাময়িক সমাধান দেবে কিন্তু ভবিষ্যতে ইরানকে একটি বৃহত্তর শক্তিতে পরিণত হওয়ার সুযোগ করে দেবে। এই পরিস্থিতিতে ইসরায়েল তার নিজস্ব নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিকল্প ব্যবস্থার কথা ভাবছে।
