মাসব্যাপী চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যে নতুন করে উত্তেজনায় জড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। বৃহস্পতিবার দুই দেশ একে অপরের সামরিক অবস্থান লক্ষ্য করে পাল্টাপাল্টি হামলার অভিযোগ তোলে, যা চলমান সমঝোতাকে বড় ধরনের পরীক্ষার মুখে ফেলেছে।
ইরানের সামরিক বাহিনীর দাবি, হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশ করা দুটি জাহাজে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র এবং দেশটির উপকূলীয় কয়েকটি এলাকায় বিমান হামলাও চালানো হয়েছে। এর জবাবে ইরানও হরমুজ প্রণালির পূর্বাঞ্চল ও চাবাহার বন্দরের কাছে অবস্থানরত মার্কিন যুদ্ধজাহাজে পাল্টা হামলা চালিয়েছে বলে জানায় তেহরান।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, ইরানের পক্ষ থেকে ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও ছোট নৌযান দিয়ে হামলার চেষ্টা করা হলে আত্মরক্ষার্থে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। মার্কিন বাহিনীর দাবি, তাদের কোনো জাহাজ বা সামরিক সম্পদের ক্ষতি হয়নি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ঘটনাকে ‘সামান্য আঘাত’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, যুদ্ধবিরতি এখনো কার্যকর রয়েছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, দ্রুত শান্তিচুক্তি না হলে আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
ইরানও পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, যেকোনো ধরনের আগ্রাসনের জবাব তারা শক্তভাবে দেবে। কয়েক ঘণ্টার উত্তেজনার পর ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, হরমুজ প্রণালির আশপাশের পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে।
এই সংঘাতের প্রভাব বিশ্ববাজারেও পড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে তেলের বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, পারমাণবিক কর্মসূচি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং হরমুজ প্রণালিতে নৌচলাচল—এই তিনটি বিষয় এখন যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সম্পর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংকট হিসেবে সামনে এসেছে।
