বেইজিং সফর শেষে মার্কিন প্রতিনিধি দল চীনা স্বাগতিকদের দেওয়া সব উপহার ও স্মারকসামগ্রী ফেলে দিয়েছে। ওয়াশিংটনে ফেরার উদ্দেশ্যে বিমানে ওঠার ঠিক আগ মুহূর্তে মার্কিন কর্মকর্তারা এই সিদ্ধান্ত নেন। ফেলে দেওয়া সামগ্রীর মধ্যে চীন সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া বিভিন্ন উপহার, বিশেষ ব্যাজ, পিন এবং অন্যান্য স্মারকপণ্য ছিল।
জানা গেছে, বেইজিং বিমান বন্দরে মার্কিন সরকারের বিশেষ বিমান ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’-এ ওঠার ঠিক পূর্ব মুহূর্তে প্রতিনিধি দলের সদস্যরা এই পদক্ষেপ নেন। মূলত চীনে তৈরি কোনো ধরনের জিনিসপত্র বা বস্তু তারা মার্কিন রাষ্ট্রপতির বিমানে তুলতে চাননি। সম্ভাব্য কোনো কারিগরি বা প্রযুক্তিগত ঝুঁকি এড়াতেই এমন নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা কেবল উপহার ফেলে দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। চীন সফরের উদ্দেশ্য দেশ ছাড়ার আগেই প্রতিনিধি দলের সদস্যরা তাঁদের নিয়মিত ব্যবহার করা ব্যক্তিগত মোবাইল, ল্যাপটপসহ সব ধরনের ডিজিটাল ডিভাইস বাড়িতে রেখে গিয়েছিলেন। সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে পুরো সফরে তাঁরা কোনো স্থায়ী ডিভাইস ব্যবহার করেননি।
এর পরিবর্তে বেইজিংয়ে অবস্থানকালীন পুরো সময়ে মার্কিন কর্মকর্তারা অস্থায়ী ‘বার্নার ফোন’ বা ওয়ান-টাইম ব্যবহারের উপযোগী মোবাইল ফোন ব্যবহার করেছেন। চীন সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের ডিজিটাল আড়িপাতা, সম্ভাব্য গোপন নজরদারি বা সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকি এড়ানোর জন্য কঠোর প্রোটোকলের অংশ হিসেবে এই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল।
বিশ্বের শীর্ষ দুই অর্থনৈতিক পরাশক্তির মধ্যে চলমান তীব্র ভূ-রাজনৈতিক ও প্রযুক্তিগত স্নায়ুযুদ্ধের বিষয়টি এই ঘটনার মাধ্যমে আবারও প্রকাশ্যে এল। দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা চললেও, সাইবার নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা রক্ষার ক্ষেত্রে ওয়াশিংটন বেইজিংকে কতটা অবিশ্বাস করে, মার্কিন প্রতিনিধি দলের এই আচরণ তারই এক বড় প্রমাণ।
