জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবিপ্রবি) নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমির হোসেন ভূঁইয়া। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে তাঁকে চার বছরের জন্য এই পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
তবে ড. আমির হোসেন ভূঁইয়ার এই নিয়োগ শিক্ষাঙ্গনে নতুন করে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে ছাত্রীদের যৌন হয়রানি, বডি শেমিং, মানসিক নির্যাতন এবং গবেষণাপত্রে জালিয়াতির মতো গুরুতর সব অভিযোগ রয়েছে। এমনকি গবেষণা জালিয়াতির দায়ে এর আগে ২০১৯ সালে জাবির সিন্ডিকেট সভা থেকে তাঁকে সাময়িক বরখাস্তও করা হয়েছিল।
যৌন নিপীড়নের অভিযোগ প্রসঙ্গে জানা যায়, ২০২৪ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের ৪৭তম আবর্তনের শিক্ষার্থীরা তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় সভাপতির কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেন। অভিযোগে বলা হয়, তিনি ক্লাসে শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আপত্তিকর আলোচনা করতেন, নারী শিক্ষার্থীদের নিয়ে অশালীন মন্তব্য করতেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নজরদারি চালাতেন এবং পরীক্ষার ফলাফলে বৈষম্য করতেন।
এই অভিযোগের পর গঠিত পাঁচ সদস্যের প্রাথমিক তদন্ত কমিটির প্রধান অধ্যাপক ড. আইরিন আক্তার জানান, তাঁরা তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন এবং পরবর্তী সিদ্ধান্তের দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের। এছাড়া ২০১২ সালে পরমাণু শক্তি গবেষণা ইনস্টিটিউটের করা একটি গবেষণার উপাত্ত চুরি করে ২০১৭ সালে নতুন প্রবন্ধ প্রকাশের দায়ে তাঁর বিরুদ্ধে জালিয়াতির সত্যতা পেয়েছিল জাবির তদন্ত কমিটি।
বর্তমানে ড. আমির হোসেন ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে উপাচার্যের নেতৃত্বাধীন ‘স্ট্রাকচারাল কমিটি’র (অধিকতর তদন্ত কমিটি) তদন্ত চললেও তা এখনো চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি। এই পরিস্থিতিতে তাঁকে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের জন্য অনাপত্তিপত্র (এনওসি) দেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। জাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান জানিয়েছেন, লিগ্যাল অ্যাডভাইজারের পরামর্শ অনুযায়ী এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
