বিশ্বজুড়ে তুর্কিদের হারানো গৌরব, সমৃদ্ধি ও ঐতিহাসিক আধিপত্য ফিরিয়ে আনার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। তুর্কি রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত ঐক্য জোরদার করতে তাঁর প্রশাসন এবার এক নজিরবিহীন ও দীর্ঘমেয়াদি মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।
এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে তুরস্কের ক্ষমতাসীন দল একে পার্টিতে (জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি) ‘তুর্কি রাষ্ট্র সম্পর্ক অধিদপ্তর’ নামে সম্পূর্ণ আলাদা একটি বিভাগ খোলা হয়েছে। একই সঙ্গে দেশটিতে প্রথমবারের মতো প্রণয়ন করা হয়েছে ১৯৬ পৃষ্ঠার একটি সুদূরপ্রসারী কৌশলগত রূপরেখা, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘তুর্কি ওয়ার্ল্ড ভিশন ডকুমেন্ট’।
কাজাখস্তানে তুর্কি রাষ্ট্রগুলোর আন্তর্জাতিক সম্মেলন শেষে দেশে ফেরার পথে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তুর্কি প্রেসিডেন্ট এই ঐতিহাসিক রূপরেখার বিশদ তথ্য তুলে ধরেন। তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, “আমাদের পূর্বপুরুষরা যেভাবে অতীতে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও ন্যায়ের মাধ্যমে বিশ্বে তুর্কিদের ক্ষমতা ও গৌরব প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, আজ তুর্কি বিশ্বের শক্তিশালী ও স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আমরাও সেই আধিপত্য ও ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনব।”
নতুন এই ভিশন ডকুমেন্টে তুর্কি রাষ্ট্রগুলোর পারস্পরিক বাণিজ্যের পরিমাণ দীর্ঘমেয়াদে ১০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থনৈতিক এই রূপরেখাকে গতিশীল করতে একটি যৌথ ‘তুর্কি বিনিয়োগ ও উন্নয়ন তহবিল’ এবং ‘তুর্কি বিশ্ব উন্নয়ন ও পুনর্গঠন ব্যাংক’ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এমনকি সদস্য দেশগুলোর মধ্যে লেনদেন সহজ করতে ‘তুর্ককয়েন’ (Turkcoin) নামের একটি কমন ডিজিটাল মুদ্রা চালুর বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।
শুধুমাত্র অর্থনীতি বা বাণিজ্য নয়, এই রূপরেখায় প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তার বিষয়টিকেও সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এরদোয়ান প্রশাসন তুর্কি রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সামরিক সহযোগিতা বাড়াতে একটি সমন্বিত প্রতিরক্ষা সংস্থা এবং সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় একটি ডেডিকেটেড সাইবার সিকিউরিটি এজেন্সি গঠনের প্রস্তাব এনেছে। বিশ্ব রাজনীতির নতুন সমীকরণে তুর্কি দেশগুলোকে একটি অখণ্ড ও প্রভাবশালী বৈশ্বিক শক্তি হিসেবে গড়ে তুলতেই এরদোয়ানের এই মহাপরিকল্পনা।
