নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার চরজব্বার ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি ডা. আব্দুস সামাদের বাড়ি থেকে সরকারি চাল উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে তীব্র বিভ্রান্তি ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে জামায়াত নেতার পক্ষ থেকে একে বৈধভাবে কেনা চাল হিসেবে দাবি করে একটি প্রতিবাদ বিবৃতি দেওয়া হয়েছে।
গত ১৬ মে রাতে ডা. আব্দুস সামাদের বাড়ি থেকে খাদ্য অধিদপ্তরের বস্তাবন্দী চাল উদ্ধারের পর ‘জামায়াত নেতার বাড়িতে মিলল খাদ্য অধিদপ্তরের ৯৯ বস্তা চাল’ শিরোনামে সংবাদ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। এরপরই বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে নানা অপপ্রচার ও উদ্দেশ্যমূলক প্রোপাগান্ডা শুরু হয়। তবে পুরো বিষয়টি বর্তমানে প্রশাসনের তদন্তাধীন রয়েছে এবং এখনো এটি ‘অবৈধ মজুদ’ বা ‘চুরি’ হিসেবে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়নি।
ঘটনাস্থল থেকে ৯৫ বস্তা সরকারি চাল জব্দের বিষয়টি নিশ্চিত করে সুবর্ণচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আকিব ওসমান জানিয়েছেন, স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে চালগুলো উদ্ধার করে বর্তমানে প্রশাসনের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তিনি স্পষ্ট করেন যে, এখন মূলত চালের সাথে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে যদি বৈধ কাগজপত্র পাওয়া না যায়, তবেই প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অপরদিকে অভিযুক্ত জামায়াত নেতা ডা. আব্দুস সামাদ তাঁর লিখিত বিবৃতিতে চাল চুরির অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। তিনি জানান, উদ্ধারকৃত চাল তাঁর ব্যক্তিগত নয়; বরং তাঁর ছোট ভাই আলী আজগর (কামাল) একজন নিয়মিত চাল ব্যবসায়ী হিসেবে স্থানীয় তিনটি মাদ্রাসা থেকে এই চাল সম্পূর্ণ বৈধ প্রক্রিয়া ও নিয়ম অনুসরণ করে ক্রয় করেছেন।
বিবৃতিতে উল্লেখিত চাল সংগ্রহের উৎস হিসেবে শিক্ষা গ্রাম দারুল উলুম ইসলামিয়া মাদ্রাসা, আশরাফুল উলুম ইসলামিয়া মাদ্রাসা ও ইখলাস নুরানী কওমী মাদ্রাসার নাম উল্লেখ করা হয়েছে। জামায়াত নেতার দাবি, এই চাল ক্রয়ের সমস্ত বৈধ কাগজপত্র, মানি রসিদ ও প্রয়োজনীয় আইনি প্রমাণাদি তাঁদের কাছে যথাযথভাবে সংরক্ষিত রয়েছে। দেশের বিভিন্ন কওমি বা নূরানী মাদ্রাসা অনেক সময় সরকারি বরাদ্দের চাল নিজেদের প্রয়োজন বা বাজারমূল্যের কারণে স্থানীয় ডিলারদের কাছে বিক্রি করে থাকে এবং এটি তেমনই একটি নিয়মিত বাণিজ্যিক প্রক্রিয়া।
জামায়াত নেতৃবৃন্দের অভিযোগ, এলাকার একটি কুচক্রী মহল সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের লক্ষ্যে এই বৈধ প্রক্রিয়াটিকে ‘অবৈধ’ ও ‘চাল চুরি’ হিসেবে দেগে দেওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। গণমাধ্যমের একাংশ এবং সামাজিক মাধ্যমের অনেক ব্যবহারকারী প্রশাসনের তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই ছবি বা ফটোকার্ড তৈরি করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের মতো করে মিথ্যা প্রচারণা ছড়াচ্ছে। তারা আশা প্রকাশ করেন, প্রশাসনের নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে খুব দ্রুতই প্রকৃত সত্য জনগণের সামনে উন্মোচিত হবে।
