সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া রংপুর পীরগঞ্জের একটি অডিও রেকর্ড এবং নোয়াখালীর সুবর্ণচরে জামায়াত নেতার বাড়ি থেকে চাল উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক ও মিডিয়া অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে। নেটিজেনদের একাংশের দাবি, একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও স্পর্শকাতর অপরাধের ঘটনা থেকে জনগণের মনোযোগ সরাতেই মূলত সুবর্ণচরের চাল উদ্ধারের ঘটনাটিকে সামষ্টিক মিডিয়া কাভারেজের মাধ্যমে সামনে আনা হয়েছে।
ভাইরাল হওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা থেকে পীরগঞ্জে এক প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার আগমনের কথা ছিল। অভিযোগ উঠেছে, ওই নেতার জন্য এক অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরী তথা সুন্দরী মেয়ে ম্যানেজ করতে স্থানীয় যুবদলের এক নেতা একজন নারী নেত্রীকে ফোনে প্রস্তাব দেন। ওই ফোনালাপে ১২ থেকে ১৬ বছর বয়সী এক ভ্যানচালকের মেয়েকে টার্গেট করার পরিকল্পনা করা হচ্ছিল বলে জানা যায়, যা সামাজিক মাধ্যমে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
সমালোচকদের দাবি, এই চরম অমানবিক ও রাজনৈতিক অবক্ষয়ের ঘটনাটিকে ধামাচাপা দিতে এবং জনমানসের ন্যারেটিভ বা আলোচনা ঘুরিয়ে দিতেই সুবর্ণচরের চাল উদ্ধারের ঘটনাকে বড় আকারে উপস্থাপন করা হয়েছে। জাতীয়তাবাদী ধারার সাইবার বা বট ফোর্স এবং বড় বড় মূলধারার গণমাধ্যমগুলো সুবর্ণচরের ঘটনাকে যেভাবে ফলাও করে প্রচার করেছে, তাকে অনেকে সুপরিকল্পিত ‘মিডিয়া সন্ত্রাস’ হিসেবে অভিহিত করছেন। এমনকি এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আসন্ন টেলিভিশন টকশোগুলোতে সংশ্লিষ্ট দলের নেতাদের বিব্রত করার চেষ্টা চালানো হতে পারে বলেও অনেকে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
তবে সুবর্ণচরের ঘটনার নেপথ্য চিত্র ইতিমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে স্পষ্ট করেছেন অভিযুক্ত জামায়াত নেতা ডা. আব্দুস সামাদ। তিনি তাঁর ফেসবুক ও লিখিত বিবৃতিতে সমস্ত দালিলিক প্রমাণ উপস্থাপন করে জানিয়েছেন, উদ্ধারকৃত চাল কোনো অবৈধ বা চুরির চাল নয়। তাঁর ছোট ভাই একজন নিয়মিত ডিলার বা ব্যবসায়ী হিসেবে স্থানীয় কয়েকটি কওমি ও নূরানী মাদ্রাসা থেকে তাদের সরকারি বরাদ্দের চাল সম্পূর্ণ বৈধ উপায়ে ক্রয় করেছিলেন। উপরন্তু, ওই এলাকায় একটি ওয়ার্ডের জামায়াত নেতার সরকারি চাল আত্মসাৎ করার মতো কোনো শক্তিশালী রাজনৈতিক অবস্থানও নেই বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
এই পুরো পরিস্থিতির তুলনা করে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সচেতন সমাজ সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, পূর্ববর্তী ক্ষমতাসীন দলের মতোই বর্তমানের বড় রাজনৈতিক দলগুলোও জনমনোযোগ আসল সমস্যা থেকে সরাতে একই ব্লুপ্রিন্ট ও কৌশল অনুসরণ করছে, যা দেশের ভবিষ্যতের জন্য একটি অত্যন্ত বিপজ্জনক সংকেত। একই সাথে বিগত ৫ই আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের পর আমূল পরিবর্তনের আশা করা হলেও, মূলধারার গণমাধ্যমগুলো এখনো সাধারণ জনগণের হয়ে কথা না বলে বড় দলগুলোর এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে, যা স্বাধীন গণমাধ্যমের ক্ষেত্রে একটি বড় ব্যর্থতা হিসেবেই থেকে যাচ্ছে।
