মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বেইজিং সফরকে যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক প্রভাব ও ক্ষমতা কমে যাওয়ার একটি স্পষ্ট প্রতীক হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। মার্কিন প্রভাবশালী ম্যাগাজিন ‘দ্য আটলান্টিক’-এ প্রকাশিত এক তীক্ষ্ণ বিশ্লেষণী প্রতিবেদনে এই মূল্যায়নটি উঠে এসেছে। প্রতিবেদনটিতে বর্তমান ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং বিশ্বমঞ্চে শক্তির ভারসাম্য পরিবর্তনের বিষয়টি সমালোচনামূলকভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
নিবন্ধটির লেখক ফ্র্যাঙ্কলিন ফোয়ের তাঁর বিশ্লেষণে মন্তব্য করেন, চীন মূলত অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণ রাজকীয় আয়োজন ও কূটনৈতিক আনুষ্ঠানিকতার চাদরে ঢেকে ট্রাম্পকে বেইজিংয়ে স্বাগত জানিয়েছে। তবে এই আতিথেয়তার আড়ালে বেইজিং আসলে ওয়াশিংটনের জন্য বড় কোনো রাজনৈতিক বা কৌশলগত সুবিধা দেয়নি, এমনকি অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য কোনো ছাড় প্রদান করেনি।
প্রতিবেদনে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়, বিশ্বব্যাপী তীব্র হতে থাকা ইরান সংঘাতের বিষয়েও শি জিনপিং যুদ্ধ বন্ধে বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে কোনো নির্দিষ্ট বা কার্যকর পরিকল্পনা মার্কিন প্রেসিডেন্টের সামনে উপস্থাপন করেননি। এর পাশাপাশি বর্তমান বৈশ্বিক প্রযুক্তি ও শিল্প খাতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিরল খনিজ বা রেয়ার আর্থ মিনারেলস সরবরাহের ব্যাপারেও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কোনো দীর্ঘমেয়াদি বা বিশেষ নিশ্চয়তা দেননি চীনের প্রেসিডেন্ট।
এমনকি বাণিজ্যক্ষেত্রেও যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিকে স্বস্তি দেওয়ার মতো বড় ধরনের কোনো চুক্তি স্বাক্ষর করা থেকে কৌশলগতভাবে বিরত থেকেছে শি জিনপিং প্রশাসন। বিশ্লেষণে বলা হয়, বেইজিং শুধু নিজেদের স্বার্থ এবং কূটনৈতিক সৌজন্যটুকুই বজায় রেখেছে, যার ফলে ট্রাম্পের এই হাই-প্রোফাইল সফর থেকে মার্কিন প্রশাসনের ঝুলিতে বড় কোনো অর্জন জমা হয়নি।
মার্কিন শক্তির এই ঐতিহাসিক রূপান্তরকে ইঙ্গিত করে দ্য আটলান্টিকের ওই প্রতিবেদনে অত্যন্ত কড়া ভাষায় বলা হয়, বৈশ্বিক রাজনীতিতে এখন এমন এক পরিস্থিতি দাঁড়িয়েছে যেখানে যুক্তরাষ্ট্র যখন সহযোগিতার হাত বাড়ায়, তখন আর কেউ তা লুফে নিতে ছুটে আসে না; আবার ওয়াশিংটন যখন কাউকে হুমকি দেয়, তখনও অন্য শক্তিগুলো আর আগের মতো ভয় পায় না। এই মন্তব্যটিই মূলত ওয়াশিংটনের ক্ষীয়মাণ প্রভাবকে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে আলোচনায় নিয়ে এসেছে।
