বাংলাদেশকে নিজেদের তৈরি অন্যতম সেরা ও অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান ‘জেএফ-১৭ থান্ডার ব্লক-৩’-এর একটি পূর্ণাঙ্গ কম্ব্যাট বা যুদ্ধকালীন সিমুলেটর হস্তান্তর করেছে পাকিস্তান। তবে মজার এবং চমকপ্রদ ব্যাপার হলো, এই সিমুলেটরটি সম্প্রতি নয়; বরং গত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় ২০২৫ সালের ডিসেম্বরেই অত্যন্ত গোপনে বাংলাদেশে সরবরাহ করা হয়েছিল, যা গত পরশু দিন প্রথম জনসমক্ষে প্রকাশ পায়।
এভিয়েশন ও সামরিক বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘ডিফেন্স সিকিউরিটি এশিয়া’-এর এক বিশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, অত্যাধুনিক এই যুদ্ধবিমানের সিমুলেটর হস্তান্তরকে কেবল একটি সাধারণ বা কূটনৈতিক উপহার হিসেবে দেখার কোনো সুযোগ নেই। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি হতে পারে নিকট ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে বিলিয়ন ডলারের জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান ক্রয়ের চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের আগের একটি বড় এবং সুপরিকল্পিত প্রস্তুতিমূলক পদক্ষেপ।
ঢাকায় অনুষ্ঠিত ওই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে পাকিস্তান বিমান বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা জেএফ-১৭ ব্লক-৩ বিমানের বহুমুখী আকাশ যুদ্ধ সক্ষমতার বিষয়টি বাংলাদেশের সামনে বিশেষভাবে তুলে ধরেন। বিশেষ করে গত ২০২৫ সালের মে মাসে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে তৈরি হওয়া তীব্র যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে ভারতের ফরাসি প্রযুক্তির ‘রাফাল’ যুদ্ধবিমানের তুলনায় জেএফ-১৭ ঠিক কতটা কার্যকর ও সফল ছিল, সেই তুলনামূলক বাস্তব চিত্র ও সামরিক ডেটাও তারা বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর কাছে উপস্থাপন করেছেন বলে জানা গেছে।
পাকিস্তান যে উন্নত প্রযুক্তির সিমুলেটরটি বাংলাদেশে পাঠিয়েছে, সেটি সাধারণ বা প্রাথমিক স্তরের কোনো সাধারণ ফ্লাইং প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা নয়। এটি সম্পূর্ণ যুদ্ধকালীন মান ও আধুনিক ককপিট প্যানেল বজায় রেখে তৈরি একটি পূর্ণাঙ্গ জেএফ-১৭ থান্ডার ব্লক-৩ কম্ব্যাট সিমুলেটর। এই অত্যাধুনিক সিস্টেমটির মাধ্যমে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর পাইলটরা আসল যুদ্ধবিমানে ওড়ার আগেই যেকোনো রিয়েল-টাইম মিশন, আকাশ প্রতিরক্ষা বা যুদ্ধের বাস্তবসম্মত মহড়া শতভাগ নিখুঁতভাবে দিতে পারবেন।
