পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন নতুন বিজেপি সরকারের মন্ত্রিসভার বৈঠকে রাজ্যে চালু থাকা ইমাম, মুয়াজ্জিন ও পুরোহিতদের সব ধরনের ভাতা বন্ধের এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী মাস থেকেই এই প্রশাসনিক সিদ্ধান্তটি কার্যকর হতে যাচ্ছে। আজ সোমবার রাজ্য সচিবালয় নবান্নে মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে রাজ্যের নারী, শিশু ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল আনুষ্ঠানিকভাবে এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানান, ধর্মের নামে চালু থাকা সব ধরনের বৈষম্যমূলক প্রকল্প এই সরকার পুরোপুরি বন্ধ করে দিতে চায়। তাই ধর্মীয় অনুপ্রেরণায় বা তোষণ রাজনীতির অংশ হিসেবে দেওয়া ইমাম, মুয়াজ্জিন ও পুরোহিতদের সরকারি ভাতা আগামী মাস থেকে আর দেওয়া হবে না। সরকারের এই কঠোর পদক্ষেপের পাশাপাশি পূর্ববর্তী সরকারের আমলের নারী নির্যাতন ও নানা আর্থিক দুর্নীতির তদন্তে পৃথক দুটি শক্তিশালী কমিশন গঠন করা হয়েছে।
মন্ত্রিসভার এই বৈঠকেই মূলত গত ১৫ বছরের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের আমলে ঘটে যাওয়া নারী ও শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ, হত্যা এবং নারী সুরক্ষার সামগ্রিক ঘাটতি তদন্তে প্রথম কমিশনটি গঠন করা হয়। এই বিশেষ তদন্ত কমিশনের চেয়ারম্যান করা হয়েছে কলকাতা হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সমাপ্তি চট্টোপাধ্যায়কে। অন্যদিকে, বিগত সরকারের আমলে রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পে হওয়া ব্যাপক দুর্নীতির তদন্তের জন্য গঠিত দ্বিতীয় কমিশনের চেয়ারম্যান করা হয়েছে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুকে। আগামী ১ জুন থেকে কমিশন দুটি তাদের আনুষ্ঠানিক কাজ শুরু করবে এবং তদন্ত শেষে সরাসরি চার্জশিট দিয়ে অভিযুক্তদের বিচারের সম্মুখীন করতে পারবে।
এদিকে নবান্নে মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর আজই দক্ষিণ কলকাতার ধনধান্য স্টেডিয়ামে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকের কৃতী শিক্ষার্থীদের এক বর্ণাঢ্য সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে তিনি শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা তুলে দিয়ে ঘোষণা করেন, আজ থেকে পশ্চিমবঙ্গ সরকার কেন্দ্রীয় সরকারের ঘোষিত জাতীয় শিক্ষানীতির (এনইপি) সঙ্গে পুরোপুরি যুক্ত হলো। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, শিক্ষা মানুষের মৌলিক অধিকার এবং শিক্ষাঙ্গনকে সম্পূর্ণ রাজনীতিমুক্ত রাখাই তাঁর নতুন সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
মুখ্যমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, তাঁর সরকার নারীশিক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবে এবং রাজ্যের সরকারি শিক্ষাব্যবস্থার আমূল উন্নয়ন করবে। রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে প্রকৃত স্বায়ত্তশাসন দিয়ে শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনা হবে, যাতে রাজ্যের মেধা বাইরে চলে না যায়। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে এক অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্যে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘এবার তোমরা ভয়কে করে দাও আউট আর জয়কে করো ইন। তোমরাই হবে এই জাতির ভবিষ্যৎ অভিভাবক।’
