ঘরোয়া রাজনৈতিক প্রতিযোগিতায় নিজের অবস্থান শক্তিশালী ও এগিয়ে রাখতে গিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতকে চরম বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলেছে ইসরায়েল। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকে আমিরাতে তাঁর অত্যন্ত গোপন ও স্পর্শকাতর একটি সফরের তথ্য ফাঁস করে দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে টেক্কা দেওয়ার এই চেষ্টায় দুই দেশের মধ্যকার কূটনৈতিক শিষ্টাচার চরমভাবে লঙ্ঘিত হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রশাসন বিশেষভাবে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করেছিল, নেতানিয়াহুর এই দ্বিপাক্ষিক গোপন সফরের কথা যেন কোনোভাবেই প্রকাশ না করা হয়। তবে ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী নাফতালি বেনেটের আরব আমিরাতে একটি আসন্ন প্রকাশ্য সফরের আগাম সংবাদ পায় নেতানিয়াহুর কার্যালয়। বেনেটের ওই সফরের কারণে নেতানিয়াহুর নিজস্ব কূটনৈতিক সাফল্য যেন আড়ালে চলে না যায়, মূলত সেই আশঙ্কায় এই গোপনীয়তার চুক্তি ভঙ্গ করা হয়।
প্রতিদ্বন্দ্বী নাফতালি বেনেটের চেয়ে সংবাদমাধ্যমে নিজেকে বেশি আলোচিত ও প্রাসঙ্গিক রাখতে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকে তড়িঘড়ি করে আরব আমিরাতে তাঁর সেই গোপন সফরের তথ্যটি গণমাধ্যমে ফাঁস করে দেওয়া হয়। নিজের রাজনৈতিক স্বার্থে এমন একটি স্পর্শকাতর ও কৌশলগত তথ্য এভাবে প্রকাশ করে দেওয়ায় তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন আবুধাবির শীর্ষ কর্মকর্তারা।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের নীতিনির্ধারকেরা ইসরায়েলের এই দায়িত্বজ্ঞানহীন ও একতরফা পদক্ষেপে চরমভাবে ক্ষুব্ধ হলেও ইসরায়েলি কর্মকর্তারা অবশ্য বিষয়টিকে হালকাভাবে দেখছেন। তেল আবিবের দায়িত্বশীল কূটনৈতিক কর্মকর্তাদের দাবি, এই তথ্য ফাঁসের ঘটনায় আবুধাবি সাময়িকভাবে অসন্তুষ্ট হলেও এর ফলে দুই দেশের মধ্যে গড়ে ওঠা ক্রমবর্ধমান কৌশলগত ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের বড় ধরনের কোনো ক্ষতি হবে না।
