চট্টগ্রামে জুলাই বিপ্লবের গ্রাফিতি আঁকতে গিয়ে নারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ, সুন্দরবনে বনরক্ষীদের গুলিতে নাগরিক নিহত হওয়া এবং দেশজুড়ে সড়ক দুর্ঘটনাসহ বিভিন্ন ঘটনায় প্রাণহানিতে গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
রোববার দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও প্রচার-মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এক বিবৃতিতে এসব ঘটনার প্রতিবাদ জানান।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, জুলাই বিপ্লবের পর গণতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতায় আসার পরও সুন্দরবনে বনরক্ষীদের গুলিতে নাগরিকের মৃত্যু, সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি এবং নারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের মতো ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক ও অগ্রহণযোগ্য। তিনি এসব ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতিই এসব ঘটনার মাধ্যমে ফুটে উঠছে।
জুবায়ের অভিযোগ করেন, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের ব্যর্থতা এবং জুলাইয়ের চেতনা ও আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে উদাসীনতার কারণেই অভ্যুত্থানের পরও এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বাড়ছে।
তিনি বলেন, জুলাই আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে চট্টগ্রামের শিক্ষার্থীরা গ্রাফিতি আঁকতে গেলে তাদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আচরণ এবং সরকারি দলের কর্মীদের ভূমিকা ছিল নিন্দনীয়। পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ ও দায়িত্বশীলভাবে মোকাবিলা করা উচিত ছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানান।
বিবৃতিতে বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রতিক প্রাণহানির ঘটনাও তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে বগুড়ার শিবগঞ্জে জমি বিরোধে দুই চাচাতো ভাই হত্যাকাণ্ড, সুন্দরবনে কাঁকড়া আহরণের সময় বনবিভাগের গুলিতে এক জেলের মৃত্যু, ফরিদপুরের ভাঙ্গায় সড়ক দুর্ঘটনায় চালক ও সহকারীর মৃত্যু, নোয়াখালীর সেনবাগে ট্রাকচাপায় এক মাদরাসা অধ্যক্ষের প্রাণহানি, মেঘনা ঘাট বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাস বিস্ফোরণে একজনের মৃত্যু, শেরপুরে সংঘর্ষে নিহত হওয়ার ঘটনা, মাদারীপুরে একই পরিবারের তিন সদস্যের মরদেহ উদ্ধার, কক্সবাজারে নদীতে ডুবে এক স্কুলছাত্রের মৃত্যু এবং ঝিনাইদহে বজ্রপাতে একজনের মৃত্যু।
অ্যাডভোকেট জুবায়ের এসব ঘটনায় নিহতদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
তিনি আরও বলেন, সরকারের ব্যর্থতার কারণে দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে এবং সড়কে প্রতিনিয়ত প্রাণহানি ঘটছে। সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার না হওয়ায় এসব মৃত্যুর দায় সরকার এড়াতে পারে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সবশেষে তিনি প্রতিটি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।
