ইরানের সঙ্গে চলমান ভয়াবহ সামরিক সংঘাতের জেরে বিশ্ববাজার ও বৈশ্বিক বড় বড় কোম্পানিগুলোর আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ এক ধাক্কায় অন্তত ২৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক বিশেষ অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার সাথে সাথে বৈশ্বিক অর্থনীতির এই ক্ষতির অঙ্ক প্রতি মুহূর্তেই আরও বাড়ছে।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্ববাজারের এই চরম অস্থিরতা ও লোকসান সামাল দিতে বিশ্বজুড়ে তালিকাভুক্ত অন্তত ২৭৯টি শীর্ষস্থানীয় আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যে নানা ধরণের আত্মরক্ষামূলক ও জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। যার মধ্যে রয়েছে পণ্যের আকস্মিক দাম বাড়ানো, উৎপাদন কমিয়ে দেওয়া, শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ বিতরণ সাময়িকভাবে স্থগিত করা, নিজস্ব শেয়ার পুনরায় কেনার কর্মসূচি বন্ধ রাখা, কর্মীদের বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো এবং অতিরিক্ত জ্বালানি সারচার্জ আরোপের মতো কঠোর সিদ্ধান্ত।
চলমান এই যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক খাতের মধ্যে সবচেয়ে বড় বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন বা এভিয়েশন খাত। মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় জেট ফুয়েলের (উড়োজাহাজের জ্বালানি) দাম প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে যাওয়ায় এই এক খাতেই ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৫ বিলিয়ন ডলার। এ ছাড়া বিশ্ববিখ্যাত গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘টয়োটা’ একাই আনুমানিক ৪ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের বিশাল আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে বলে জানা গেছে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ববাজারে বর্তমানে পেট্রোকেমিক্যাল, অটোমোবাইল, শিল্প কাঁচামাল এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোক্তা পণ্য খাত সবচেয়ে বেশি মারাত্মক চাপের মধ্যে রয়েছে। ইরান কর্তৃক কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি কার্যত অবরুদ্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে খনিজ তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। জ্বালানির এই লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে তা বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতিকে আরও উসকে দেবে এবং বিশ্বজুড়ে সাধারণ ভোক্তাদের এমনিতেই নাজুক থাকা আস্থাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
