ওমানের আল মুলাদ্দাহ এলাকায় গাড়ির এসির বিষাক্ত গ্যাসে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করা চার প্রবাসী ভাইয়ের মরদেহ অবশেষে তাদের জন্মভূমি চট্টগ্রামে এসে পৌঁছেছে। বুধবার সকালে বিমানযোগে মরদেহগুলো চট্টগ্রামে আনার পর এলাকায় এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এর আগে মঙ্গলবার রাত সোয়া ৮টার দিকে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে মরদেহগুলো ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়।
বিমানবন্দরে স্বজনদের কাছে মরদেহগুলো হস্তান্তর করেন সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী। এ সময় তিনি চার ভাইয়ের অকাল মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করায় প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ দূতাবাসের ভূমিকার প্রশংসা করেন। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক সহায়তা হিসেবে চার ভাইয়ের পরিবারকে দাফন ও পরিবহন খরচ বাবদ জনপ্রতি ৩৫ হাজার টাকা করে আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়েছে।
নিহত চার ভাই হলেন রাশেদুল ইসলাম, সাহেদুল ইসলাম, সিরাজুল ইসলাম ও শহিদুল ইসলাম। তারা চট্টগ্রামের বাসিন্দা মৃত জামাল উদ্দিনের সন্তান। বুধবার বেলা ১১টায় জানাজা সম্পন্ন হওয়ার পর তাদের পারিবারিক কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হবে। স্বজনদের কান্নায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
ঘটনাটির ভয়াবহতা এতটাই বেশি যে, চার সন্তানের মৃত্যুর মর্মান্তিক খবর এখনো অসুস্থ বৃদ্ধা মাকে পুরোপুরি জানানো সম্ভব হয়নি। ছেলেদের হারানোর শোকে বারবার জ্ঞান হারাচ্ছেন তিনি। এদিকে নিহতদের স্ত্রী, সন্তান ও স্বজনদের আহাজারিতে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। গত ১৩ মে রাতে ওমানের আল মোছানা এলাকায় গাড়ির ভেতরে এসির বিষাক্ত গ্যাস নিঃসরণের ফলে চার ভাইয়ের মৃত্যু হয়।
