জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিন ইসলামে অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ সময় হিসেবে বিবেচিত। যেমন শেষ দশ রাতকে বছরের শ্রেষ্ঠ রাত বলা হয়, তেমনি এই ১০ দিনকে আল্লাহর কাছে বছরের শ্রেষ্ঠ দিন বলা হয়েছে। এই বরকতময় সময়ে হজ পালনকারী এবং যারা হজে যাননি—সব মুসলমানই বেশি বেশি ইবাদতের মাধ্যমে সওয়াব অর্জন করতে পারেন।l
নিচে এই ১০ দিনে পালনযোগ্য গুরুত্বপূর্ণ ১০টি আমল তুলে ধরা হলো—
১. আল্লাহর জিকির করা
এই দিনগুলোতে বেশি বেশি আল্লাহর স্মরণ করা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ। তালবিয়া, তাসবিহ, তাহমিদ ও তাকবির পাঠের মাধ্যমে হৃদয়কে আল্লাহমুখী রাখা উচিত। কোরআনে বলা হয়েছে, আল্লাহর স্মরণেই হৃদয় প্রশান্তি লাভ করে।
২. দান-সদকা করা
এই সময় দান-সদকা করা অত্যন্ত সওয়াবের কাজ। সামর্থ্য অনুযায়ী গরিব-দুঃখীদের সাহায্য করা, সেবামূলক কাজ করা এবং গোপনে দান করা বিশেষভাবে উত্তম।
৩. আরাফার দিন রোজা রাখা
৯ জিলহজ অর্থাৎ আরাফার দিনের রোজা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ। হাদিস অনুযায়ী, এই রোজা আগের ও পরের এক বছরের গুনাহ মোচনের কারণ হতে পারে।
৪. চাশতের নামাজ আদায়
সূর্যোদয়ের পর থেকে যোহরের আগ পর্যন্ত চাশতের নামাজ আদায় করা নফল ইবাদতের মধ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অন্তত দুই রাকাত হলেও পড়া উত্তম।
৫. প্রতিবেশীদের ঈদের উপহার দেওয়া
ভ্রাতৃত্ব ও সৌহার্দ্য বাড়াতে প্রতিবেশীদের উপহার দেওয়া একটি সুন্দর ইসলামিক শিক্ষা। এতে পারস্পরিক ভালোবাসা বৃদ্ধি পায়।
৬. বেশি বেশি দোয়া করা
এই দিনগুলো বিশেষ করে আরাফার দিনে বেশি বেশি দোয়া করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আল্লাহর কাছে ক্ষমা, রহমত ও কল্যাণ কামনা করা উচিত।
৭. হজ পালনের নিয়ত ও সুযোগ গ্রহণ
সামর্থ্য থাকলে হজ পালন করা ইসলামের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ইবাদত। আর সুযোগ না থাকলে ভবিষ্যতে হজ করার আন্তরিক নিয়ত রাখা উচিত।
৮. মানুষের সঙ্গে কোমল আচরণ করা
মানুষের সঙ্গে নম্রতা, বিনয় ও সদাচরণ বজায় রাখা এই সময়ের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। এতে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন হয়।
৯. কোরবানি আদায় করা
কোরবানি আল্লাহর নৈকট্য লাভের গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। এর মাধ্যমে ত্যাগের শিক্ষা এবং গরিবদের সহায়তা নিশ্চিত হয়।
১০. ভালো কাজে উৎসাহিত করা
পরিবার, বন্ধু ও সমাজকে ভালো কাজের প্রতি উৎসাহিত করা একটি বড় নেক আমল। এতে অন্যরাও ইবাদতের পথে আগ্রহী হয়।
জিলহজের এই ১০ দিন মুসলমানদের জন্য আত্মশুদ্ধি, ইবাদত ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের এক অনন্য সুযোগ। যথাযথভাবে এই সময়কে কাজে লাগানোই একজন মুমিনের লক্ষ্য হওয়া উচিত।
