প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের ভৌগোলিক ও পরিবেশগত সুরক্ষায় খাল ও নদী খননের মাধ্যমে ভূমিকম্পের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা করতে হবে। কারণ নদী ও খালের পানি ধারণক্ষমতার সঙ্গে ভূমিকম্পের একটি অভ্যন্তরীণ সম্পর্ক জড়িত রয়েছে। বুধবার গাজীপুরের টঙ্গীর সাতাইশ ধরপাড়া এলাকায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি গবেষণাগার ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ভূগর্ভস্থ পানির অতিরিক্ত ব্যবহারের ভয়াবহতা তুলে ধরে বলেন, মাটির নিচে থেকে যে পরিমাণ পানি টেনে ওপরে তোলা হয়েছে, তা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এখন খাল ও নদী খনন করে বর্ষা মৌসুমের অতিরিক্ত পানি সংরক্ষণ করা হলেও আগামী ২০ বছরেও সেই ভূগর্ভস্থ পানির স্তর আগের অবস্থায় ফিরে আসবে না। ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমানো আমাদের জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠছে উল্লেখ করে তিনি জানান, সবার জন্য পানির সুব্যবস্থা নিশ্চিত করতে পদ্মা ব্যারেজের পাশাপাশি বিএনপি সরকার তিস্তা ব্যারেজ প্রকল্পেও হাত দেবে।
ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার কারণে বাসস্থান ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ নানাবিধ স্থাপনা গড়ে ওঠার বিষয়টি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই বাস্তবতায় খাল খনন কর্মসূচি কৃষি ও খাদ্যের চাহিদা পূরণে বিশাল ভূমিকা রাখবে। খাল খনন কেবল কোনো নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি নয়, বরং এটি দেশের সামগ্রিক পরিবেশ ও অস্তিত্ব রক্ষার জন্য অতীব গুরুত্বপূর্ণ একটি জাতীয় উদ্যোগ।
ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলুর সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসাইনসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব ও অধিদপ্তরের মহাপরিচালক।
নতুন গবেষণাগার ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ভিত্তিপ্রস্তরের ফলক উন্মোচন শেষে প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানস্থলের পাশের পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন এবং একটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন।
