রাজধানীর পল্লবীতে সাত বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনাটি আবারও দেশের বিচারহীনতার সংস্কৃতি ও ক্রমবর্ধমান ধর্ষণ মহামারীর চিত্রকে সামনে নিয়ে এসেছে। প্রশাসন চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে ধর্ষক সোহেল রানা ও তার স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করলেও, সাধারণ মানুষের মনে এখন বড় প্রশ্ন—শিশু রামিসা আদৌ বিচার পাবে কি না, নাকি অতীতের মতো এটিও হারিয়ে যাবে খবরের ভিড়ে।
বাংলাদেশে ধর্ষণের ঘটনা এখন প্রায় নিত্যনৈমিত্তিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং প্রতি বছরই এই অপরাধের নতুন রেকর্ড তৈরি হচ্ছে। নৃশংস কোনো ঘটনা ঘটলে অনলাইন ও রাজপথে সাময়িক ক্ষোভ ও প্রতিবাদ দেখা যায়। রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা সংবাদমাধ্যমের সামনে কঠোর বক্তব্য দেন, কিন্তু সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সেই বিচারকার্যের আর কোনো খোঁজ থাকে না। আছিয়ার মতো হাজারো শিশু নৃশংসতার শিকার হওয়ার পরও বিচারের দীর্ঘসূত্রতার কারণে বিচারহীনতার সংস্কৃতিই যেন দেশে স্থায়ী রূপ পেয়েছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বারো বছরে প্রায় ৭০ হাজার নারী ও শিশু ধর্ষণ মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে এই বিশাল সংখ্যক মামলার বিপরীতে সাজার হার অত্যন্ত হতাশাজনক। নথিভুক্ত তথ্যমতে, ৭০ হাজার মামলার মধ্যে মাত্র ১৪৪ জনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ হয়েছে এবং এর মধ্যে কার্যকর হয়েছে মাত্র ৫ জনের সাজা। এছাড়া গত দুই বছরে অন্তত ৪৬৭টি শিশু ধর্ষণের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে, যা প্রমাণ করে শিশু ধর্ষণ বর্তমানে মহামারী আকার ধারণ করেছে।
ধর্ষণের কারণ হিসেবে অনেকে নারীর পোশাককে দায়ী করার বিতর্কিত চেষ্টা করলেও রামিসা বা আছিয়ার মতো শিশুদের ক্ষেত্রে এই যুক্তি অসার। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ধর্ষণ বৃদ্ধির মূল কারণ আইনি দুর্বলতা। অপরাধী দ্রুত জামিন পেয়ে সমাজকে আরও কলুষিত করার সাহস পায়। এছাড়া টাকার বিনিময়ে ধর্ষককে আইনি সুরক্ষা দেওয়া আইনজীবীদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সচেতন মহল মনে করছেন, ধর্ষকের পাশাপাশি জামিন সহায়তাকারী আইনজীবীদেরও কঠোর জবাবদিহিতার আওতায় না আনা পর্যন্ত এই মহামারীর লাগাম টানা সম্ভব নয়।
