তুরস্কের প্রধান বিরোধী দল রিপাবলিকান পিপলস পার্টি (সিএইচপি)-এর নেতা ওজগুর ওজেলের দলীয় চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হওয়া বাতিল করেছেন আঙ্কারার একটি আপিল আদালত। ২০২৩ সালের দলীয় কংগ্রেসের মাধ্যমে তিনি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার আদালত সেই নির্বাচনকে অবৈধ ঘোষণা করলে রাজনৈতিকভাবে সুবিধাজনক অবস্থানে চলে যান প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান।
২০২৩ সালের কংগ্রেসে ওজগুর ওজেল সিএইচপি-এর দীর্ঘদিনের নেতা কামাল কিলিকদারোলোর স্থলাভিষিক্ত হন। কিলিকদারোলোকে ক্ষমতাসীন একে পার্টির জন্য তুলনামূলক দুর্বল প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখা হলেও, ওজেলের নেতৃত্বে সিএইচপি জনপ্রিয়তায় দ্রুত এগিয়ে আসে এবং ক্ষমতাসীন দলের সমকক্ষ অবস্থানে পৌঁছে যায়।
বিশেষ করে ২০২৫ সালের মার্চে ইস্তাম্বুলের সাবেক মেয়র ও সিএইচপি-এর প্রেসিডেন্ট প্রার্থী একরেম ইমামোলোর গ্রেফতার ও কারাদণ্ডের পর দেশজুড়ে যে গণবিক্ষোভ শুরু হয়, তার অন্যতম প্রধান মুখ হয়ে ওঠেন ওজগুর ওজেল।
এর আগে নিম্ন আদালত ২০২৩ সালের সিএইচপি কংগ্রেসের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছিল। তবে বৃহস্পতিবার আপিল আদালত সেই রায় বাতিল করে নির্বাচন অবৈধ ঘোষণা করে। আদালতের অভিযোগ, নির্বাচনে জালিয়াতি, চাকরি ও বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার প্রলোভন দেখিয়ে ওজেল নিজের বিজয় নিশ্চিত করেছিলেন।
একই সঙ্গে আদালত ওজগুর ওজেল এবং দলের নির্বাহী বোর্ডের সদস্যদের সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে সাবেক নেতা কামাল কিলিকদারোলোকে অন্তর্বর্তী দায়িত্ব দেয়। দায়িত্ব গ্রহণের পর কিলিকদারোলো দলীয় নেতা-কর্মীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আমাদের দল অত্যন্ত বড় একটি রাজনৈতিক শক্তি। আমরা নিজেদের সমস্যার সমাধান নিজেরাই করব।”
লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা ওজেলের
আদালতের রায়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে সমর্থকদের উদ্দেশে ওজগুর ওজেল বলেন, “আমরা নতি স্বীকার করব না। আমি আপনাদের গোলাপ বিছানো পথে ক্ষমতায় যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি না। আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি কষ্ট সহ্য করার, কিন্তু কখনও আত্মসমর্পণ না করার শক্তির।”
সিএইচপি নেতাকর্মী ও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক আইনি পদক্ষেপের মধ্যে এই রায় বিরোধী শিবিরে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করেছে। একই সঙ্গে দেশটির শেয়ারবাজারেও বড় ধরনের ধস নেমেছে।
রায়ের পর সিএইচপি আঙ্কারায় দলের প্রধান কার্যালয়ে জরুরি বৈঠক ডাকে। সেখানে শত শত নেতা-কর্মী দলীয় পতাকা হাতে বিক্ষোভে অংশ নেন এবং স্লোগান দেন।
এদিকে আদালতের সিদ্ধান্ত ঘোষণার পরপরই তুরস্কের প্রধান শেয়ার সূচক ‘বিআইএসটি ১০০’ ৬ শতাংশের বেশি পড়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সাময়িকভাবে লেনদেন বন্ধ রাখতে হয়।
তুরস্কে আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হওয়ার কথা ২০২৮ সালে। সেখানে প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান দুই দশকের বেশি সময়ের শাসন আরও দীর্ঘায়িত করার লক্ষ্য নিয়ে আবারও নির্বাচনী লড়াইয়ে নামবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
