রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা আক্তার হত্যা মামলার প্রধান আসামি যুবলীগ কর্মী সোহেল রানার অতীত জীবনের নানা চাঞ্চল্যকর অপকর্মের তথ্য সামনে এসেছে। রানার জন্ম ও বেড়ে ওঠা নাটোরের সিংড়া উপজেলার কলম ইউনিয়নের মহেষচন্দ্রপুর গ্রামে। তরুণ বয়সে স্থানীয় আওয়ামী যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে সে এলাকায় ব্যাপক পরিচিতি পায় এবং নিজেকে ‘এসএম রানা’ নামে পরিচয় দিয়ে বিলবোর্ডও টানিয়েছিল।
স্থানীয় বাসিন্দা ও জনপ্রতিনিধিদের তথ্যমতে, প্রাথমিকের গণ্ডি পার হতে না পারা রানা স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও যুবলীগ সভাপতির ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল। যুবলীগের দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে সে এলাকায় মাদক ব্যবসা, অনলাইন জুয়া, গরু চুরি এবং আত্রাই নদীর ওপর নির্মিত একটি সেতুর রড চুরির মতো অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। রড চুরির মামলায় এর আগে তাকে জেলও খাটতে হয়েছিল।
অপরাধের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনেও চরম উচ্ছৃঙ্খল ছিল এই যুবলীগ কর্মী। এলাকায় সাইকেল মেকারের কাজ করা সোহেল রানা প্রথমে বিয়ে করার পর তার একটি সন্তান হয়। কিন্তু নিজের ছোট ভাইয়ের স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্কের জেরে ১০ বছরের সেই প্রথম সংসার ভেঙে যায়। এরপর দেনায় জর্জরিত হয়ে এবং পারিবারিক চাপে ৪ বছর আগে দ্বিতীয় বিয়ে করে স্ত্রীকে নিয়ে ঢাকায় চলে আসে এবং পরিবারের সাথে সম্পূর্ণ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়।
সোহেল রানার এমন জঘন্য ও নৃশংস অপরাধের পর তার নিজ গ্রাম মহেষচন্দ্রপুরে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। রানার বাবা জেকের আলী জানান, ছেলের দেনা শোধ করতে গিয়ে তিনি নিঃস্ব হয়ে গেছেন এবং চার বছর ধরে কুলাঙ্গার ছেলের কোনো খবর নেননি। রানার মা খাদিজা বেগম এবং বোনসহ পরিবারের সকল সদস্য ও প্রতিবেশীরা এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের জন্য খুনি সোহেল রানার সর্বোচ্চ শাস্তি ও ফাঁসি দাবি করেছেন।
