রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় অভিযোগ গঠন বিষয়ে শুনানির জন্য আগামী ১ জুন দিন ধার্য করেছেন আদালত। তবে এই জঘন্যতম অপরাধের সাথে জড়িত আসামিদের পক্ষে কোনো আইনি লড়াইয়ে না দাঁড়ানোর এক অভূতপূর্ব ঘোষণা দিয়েছে ঢাকা আইনজীবী সমিতি। আইনজীবীদের এমন কঠোর অবস্থানের কারণে আদালত প্রাঙ্গণে আসামিপক্ষের আইনি প্রতিনিধিত্ব নিয়ে এক বিশেষ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
আইনজীবী সমিতির এই বর্জনের মুখে মামলার আইনি প্রক্রিয়া স্বাভাবিক রাখতে এবং আইনি বাধ্যবাধকতা পূরণের লক্ষ্যে রবিবার (২৪ মে) রামিসা হত্যা-ধর্ষণ মামলায় আসামিপক্ষে রাষ্ট্রীয় খরচে আইনজীবী (স্টেট ডিফেন্স) নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আইন মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের সলিসিটর অনুবিভাগ থেকে প্রকাশিত এক অফিস আদেশে জানানো হয়, ঢাকা জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য অ্যাডভোকেট মুসা কালিমূল্যাহকে আসামিপক্ষে মামলা পরিচালনার জন্য রাষ্ট্রীয় খরচে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং তিনি বিধি মোতাবেক ভাতাদি প্রাপ্য হবেন।
এদিকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান রবিবার দুপুরে ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে অভিযুক্ত করে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চূড়ান্ত চার্জশিট জমা দিয়েছেন। চার্জশিট দাখিলকে কেন্দ্র করে দুপুরেই কারাগার থেকে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে প্রিজন ভ্যানে করে আদালতে নিয়ে আসা হয় এবং নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত তাদের আদালতের গারদখানায় রাখা হয়।
তদন্ত ও মেডিকেল সূত্রে জানা গেছে, সিআইডির অপরাধ তদন্ত বিভাগ থেকে শনিবার (২৩ মে) তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে ডিএনএ রিপোর্ট হস্তান্তর করা হয়েছে। ফরেনসিক ও ডিএনএ রিপোর্টে হত্যার আগে শিশু রামিসাকে জোরপূর্বক নৃশংসভাবে ধর্ষণের প্রমাণ মিলেছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট অনুযায়ী, ঘটনার দিন শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর প্রথমে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় এবং পরবর্তীতে আলামত গোপনের উদ্দেশ্যে তার দেহ থেকে মাথা ও হাত বিচ্ছিন্ন করে টুকরো করা হয়।
মামলাটি দ্রুততম সময়ে নিষ্পত্তির লক্ষ্যে রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনায় আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলুকে বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। এর আগে গত বুধবার (২০ মে) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মূল অভিযুক্ত সোহেল রানা শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও নির্মম হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছিল। জবানবন্দি রেকর্ড শেষে আদালত প্রধান আসামি ও তার সহযোগী স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
