ভারতের জাতীয় রাজনীতিতে কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর আবারও তীব্র চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করল প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস। একদিকে নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি, অন্যদিকে আগামী এক বছরের মধ্যেই নরেন্দ্র মোদি সরকারের পতনের ভবিষ্যদ্বাণী—এই দুই বিষয়েই বেশ বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। রবিবার (২৪ মে) দুই ভিন্ন মঞ্চে করা তাঁর এমন মন্তব্য ঘিরে দেশটির রাজনৈতিক মহলে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে।
মেডিকেলে ভর্তির নিট পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে রাহুল গান্ধী স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যতদিন পর্যন্ত কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ না করছেন এবং প্রশ্নফাঁস রোধে নির্ভরযোগ্য কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না, ততদিন কংগ্রেস দেশজুড়ে আন্দোলন চালিয়ে যাবে। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হায়দরাবাদে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের একটি ভিডিও শেয়ার করে অভিযোগ করেন, লাখ লাখ তরুণ যখন রাস্তায় নেমে নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করছে, তখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রহস্যজনকভাবে নীরব রয়েছেন। ২২ লাখ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মুখে ফেলে সরকার দায় এড়ানোর পথ খুঁজছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
শুধু প্রশ্নফাঁস নয়, দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও নরেন্দ্র মোদি সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন এই কংগ্রেস নেতা। দলের সংখ্যালঘু বিভাগের এক বৈঠকে তিনি দাবি করেন, আগামী এক বছরের মধ্যেই মোদি সরকারের পতন ঘটবে। দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক অসন্তোষ, লাগামহীন মূল্যস্ফীতি, তীব্র কর্মসংস্থান সংকট এবং আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিকে তিনি সরকারের বিরুদ্ধে জনরোষ বৃদ্ধির প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, লোকসভা নির্বাচনের পর কংগ্রেস আগের চেয়ে অনেক বেশি আক্রমণাত্মক অবস্থান নিয়েছে। বিশেষ করে যুবসমাজ, চাকরিপ্রার্থী এবং মধ্যবিত্তদের অসন্তোষকে সামনে এনে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে শক্তিশালী জনমত গঠনের চেষ্টা করছেন রাহুল গান্ধী। নিট প্রশ্নফাঁস ইস্যুটি বর্তমানে ভারতের শহুরে মধ্যবিত্ত ও শিক্ষার্থী সমাজে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি করায় সেই আবেগকে রাজনৈতিকভাবে কাজে লাগানোর পাশাপাশি সরকারের স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিরোধী শিবিরে নতুন আত্মবিশ্বাস তৈরির চেষ্টা চলছে।
বিজেপির পক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত রাহুল গান্ধীর এই মন্তব্যের আনুষ্ঠানিক কোনো জবাব দেওয়া হয়নি। তবে দলটির একাংশের নেতারা দাবি করেছেন, বিরোধীদের কাছে বড় কোনো জনসমর্থন না থাকায় তারা বিভিন্ন ইস্যুভিত্তিক উত্তেজনা তৈরির চেষ্টা করছে। পর্যবেক্ষকদের ধারণা, আগামী কয়েক মাসে প্রশ্নফাঁস বিতর্ক এবং অর্থনৈতিক অসন্তোষ ভারতের রাজনীতিতে আরও বড় ইস্যু হয়ে উঠতে পারে, যার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবেন রাহুল গান্ধী নিজেই।
