পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটির প্রথম দিনেই দেশের বিভিন্ন স্থানে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ২৭ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় বিপর্যয়টি ঘটেছে টাঙ্গাইলের ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে, যেখানে রডবোঝাই ট্রাক উল্টে ১৫ জন নিম্নআয়ের মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া বগুড়া, গোপালগঞ্জ, নওগাঁ, সিরাজগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ ও কিশোরগঞ্জে পৃথক দুর্ঘটনায় আরও ১২ জন নিহত হয়েছেন। ঘরমুখো মানুষের ঈদযাত্রার শুরুতেই এমন প্রাণহানি দেশের বিভিন্ন জেলায় গভীর শোকের ছায়া নামিয়ে এনেছে।
সোমবার ভোরে টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার সরাতৈল এলাকায় চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা রডবোঝাই একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে খাদে উল্টে গেলে ঘটনাস্থলেই ১৫ জন নিহত হন। আহত হন আরও ৯ জন, যাদের টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১০ জনই নওগাঁর মান্দা উপজেলার বাসিন্দা। তারা নোয়াখালীর চৌমুহনীতে ভাঙ্গারি মোবাইল কেনাবেচার কাজ করতেন এবং ফেনীর মহিপাল থেকে জনপ্রতি ৫৫০ টাকা ভাড়ায় ওই রডবোঝাই ট্রাকে চড়ে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন। চালক নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার বনানী এলাকায় ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কে অজ্ঞাত একটি গাড়ির ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী এক এনজিও কর্মকর্তা এবং তাঁর চার বছরের কন্যাসন্তান নিহত হয়েছেন। নিহত আনিসুর রহমান রংপুরের মহিমাগঞ্জে ব্র্যাক কর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। দুর্ঘটনায় তাঁর স্ত্রীও গুরুতর আহত হয়েছেন। অন্যদিকে, গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার সোনাশুর এলাকায় ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাস, মাইক্রোবাস ও প্রাইভেটকারের ত্রিমুখী সংঘর্ষে মাইক্রোবাসের চালক নিহত এবং অন্তত ১৫ জন যাত্রী আহত হয়েছেন।
নওগাঁর পত্নীতলার গাহন মোড় এলাকায় একটি দ্রুতগতির ডামট্রাক যাত্রীবাহী অটোরিকশাকে চাপা দিলে চালকসহ দুজন ঘটনাস্থলেই নিহত হন। সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে পৃথক দুটি দুর্ঘটনায় সিএনজি-নসিমন সংঘর্ষে এক কিশোরী এবং রাস্তা পার হওয়ার সময় ট্রাকচাপায় আট বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে এবং গজারিয়ায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে গভীর রাতের দুটি পৃথক দুর্ঘটনায় এক ট্রাকচালক ও এক লরির হেলপার প্রাণ হারিয়েছেন।
কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম-মিঠামইন সড়কের ভাতশালা এলাকায় রাত ৮টার দিকে এক হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা ঘটে। একটি দ্রুতগামী পিকআপ ভ্যান বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মোটরসাইকেলকে সজোরে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই আরোহী স্বামী, স্ত্রী ও তাঁদের শিশু সন্তানসহ একই পরিবারের তিনজন নিহত হন। খবর পেয়ে অষ্টগ্রাম থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ তিনটি উদ্ধার করে। সব মিলিয়ে ঈদযাত্রার প্রথম দিনটি দেশের সড়ক মহাসড়কে এক রক্তক্ষয়ী ও শোকাবহ দিনে পরিণত হয়েছে।
