বাংলাদেশ ও পাকিস্তান বাদে প্রায় সব প্রতিবেশী দেশ এবং বেশ কয়েকটি মিত্র রাষ্ট্রকে নিয়ে ভারতের মেঘালয়ে এক বিশাল বহুপাক্ষিক সামরিক মহড়া শুরু হয়েছে। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মেঘালয়ের উমরোই মিলিটারি স্টেশনে এই যৌথ অনুশীলনের আয়োজন করা হয়েছে। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদার এবং আন্তঃদেশীয় সামরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
‘প্রগতি ২০২৬’ (PRAGATI 2026) নামের এই বহুপাক্ষিক সামরিক মহড়ায় আয়োজক ভারতসহ মোট ১৩টি দেশের ৪ শতাধিক সেনাসদস্য অংশ নিয়েছেন। ভারত বাদে এই মহড়ায় অংশ নেওয়া বাকি ১২টি বন্ধুভাবাপন্ন দেশ হলো— ভুটান, কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া, লাওস, মালয়েশিয়া, মালদ্বীপ, মিয়ানমার, নেপাল, ফিলিপাইন, সেশেলস, শ্রীলঙ্কা ও ভিয়েতনাম। এই বিশাল আয়োজনে দক্ষিণ এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ দুই দেশ বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের কোনো অংশগ্রহণ না থাকা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নানা আলোচনা চলছে।
মূলত জঙ্গল ও আধা-পার্বত্য অঞ্চলে কাউন্টার-টেররিজম বা সন্ত্রাসবাদ বিরোধী যুদ্ধবিদ্যায় পারদর্শিতা ও যৌথ দক্ষতা বাড়াতে দুই সপ্তাহব্যাপী এই বিশেষ মহড়ার আয়োজন করা হয়েছে। এই প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া দেশগুলোর বৈচিত্র্যময় অভিজ্ঞতা একে অপরের সাথে বিনিময় করার পাশাপাশি একটি সমন্বিত প্রতিরক্ষামূলক কৌশল গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে, যা যেকোনো বৈরী পরিস্থিতি মোকাবিলায় মিত্র দেশগুলোর সামরিক বাহিনীকে আরও শক্তিশালী করবে।
কঠোর এই সামরিক অনুশীলনে অংশ নেওয়া মিশ্র দলগুলোকে চোরাগোপ্তা হামলা (অ্যাম্বুশ) ও তা প্রতিরোধ করা, স্নাইপার ব্যবহার, জঙ্গল লেনে নিখুঁত নিশানাভেদ, অত্যাধুনিক একে-২০৩ (AK-203) রাইফেল দিয়ে লাইভ ফায়ারিং এবং বাসে জিম্মি উদ্ধারের মতো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও বিশেষ সামরিক অভিযানগুলোর নিবিড় কৌশলগত প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। সামরিক প্রশিক্ষণের পাশাপাশি অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর সেনাদের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও আস্থা বাড়াতে বিভিন্ন খেলাধুলা ও অনানুষ্ঠানিক মতবিনিময়েরও ব্যবস্থা করা হয়েছে।
