দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে, বিশেষ করে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় মঙ্গলবার সকালে মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। সকাল ১১টা ৪১ মিনিটের দিকে এই ভূকম্পন টের পান সাধারণ মানুষ। হঠাৎ কাঁপুনিতে অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে বাসা ও অফিস থেকে বাইরে বেরিয়ে আসেন।
ইউরোপিয়ান মেডিটেরিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টার (ইএমএসসি) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৩ দশমিক ৬ এবং এর গভীরতা ছিল প্রায় ১০ কিলোমিটার। অন্যদিকে, আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্র জানিয়েছে, তাদের হিসাবে কম্পনের মাত্রা ছিল ৩ দশমিক ৪।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক রুবাইয়াৎ কবীর বলেন, এটি স্বল্পমাত্রার ভূমিকম্প এবং এতে আতঙ্কিত হওয়ার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি। তবে ভবিষ্যতে বড় ধরনের ভূমিকম্পের ঝুঁকি মোকাবিলায় সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশ ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলের মধ্যে অবস্থিত। ভারতীয়, ইউরেশীয় এবং বার্মা টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলের কাছাকাছি অবস্থান করায় দেশে মাঝেমধ্যে ভূমিকম্প অনুভূত হওয়া স্বাভাবিক। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলসহ তুলনামূলক কম ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাতেও ভূমিকম্পের প্রবণতা বাড়ছে, যা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করছে।
ভূমিকম্পে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তবুও বিশেষজ্ঞরা ভবন নির্মাণে ভূমিকম্প সহনশীল নকশা অনুসরণ এবং দুর্যোগ প্রস্তুতি জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন।
