দক্ষিণ ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে সামরিক হামলার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরও দফায় দফায় বেড়ে গেছে। তেলের এই আকস্মিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে বিশ্ববাজারে দীর্ঘমেয়াদে তীব্র মূল্যস্ফীতি এবং উচ্চ সুদের হারের এক নতুন শঙ্কা তৈরি হয়েছে। আর এই বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে মূল্যবান ধাতুর বাজারে। মঙ্গলবার (২৬ মে) বিশ্ববাজারে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে পরিচিত স্বর্ণের দামে বড় ধরনের পতন ঘটেছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এই অর্থনৈতিক চিত্র তুলে ধরেছে।
আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, মঙ্গলবার জিএমটি সময় সকাল ৭টা ৩৭ মিনিট পর্যন্ত স্পট গোল্ড বা আন্তর্জাতিক বাজারে তাৎক্ষণিক স্বর্ণের দাম ১ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। এতে বিশ্ববাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম কমে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৫২৪ দশমিক ৭৩ ডলারে। তবে এর বিপরীতে আগামী জুনে সরবরাহযোগ্য মার্কিন স্বর্ণ ফিউচারের (আগাম কেনাবেচা) দাম সামান্য বা শূন্য দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৫২৫ দশমিক ৩০ ডলার হয়েছে।
স্বর্ণের পাশাপাশি বিশ্ববাজারে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও আজ বেশ ভালো রকম কমেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট সিলভার বা রুপার দাম ২ দশমিক ৫ শতাংশের মতো কমে প্রতি আউন্স ৭৬ দশমিক ১২ ডলারে নেমে এসেছে। এছাড়া মূল্যবান ধাতু প্লাটিনামের দাম ১ দশমিক ১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৯৪৫ দশমিক ১৬ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১ দশমিক ৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৩৭৪ দশমিক ৩৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধ করা এবং বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক রুট ‘হরমুজ প্রণালি’ সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করার বিষয়ে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট সমঝোতা হয়নি। কোনো স্থায়ী সমাধান না আসায় আজ এশিয়ার বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড বা অপরিশোধিত তেলের আগাম দাম আরও ২ শতাংশ বেড়ে গেছে। হরমুজ প্রণালির এই অচলাবস্থা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারকে দিন দিন আরও বেশি অস্থির ও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে।
সম্প্রতি দক্ষিণ ইরানে মার্কিন বাহিনী ও আইআরজিসি’র মধ্যে ‘আত্মরক্ষামূলক’ হামলার ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছাতে আরও বেশ কয়েক দিন সময় লাগতে পারে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এমন হতাশাজনক মন্তব্য মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত দ্রুত অবসান হওয়ার আশাকে নস্যাৎ করে দিয়েছে, যার ফলে একদিকে যেমন তেলের বাজারে অস্থিরতা বাড়ছে,
