মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কোনো স্পষ্ট সামরিক বা কৌশলগত পরিকল্পনার বদলে মূলত সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত কারণে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেছিলেন। মার্কিন প্রভাবশালী সাময়িকী ‘দ্য আটলান্টিক’-এর এক বিশেষ বিশ্লেষণে এই চাঞ্চল্যকর দাবি করা হয়েছে। সাময়িকীটি আরও উল্লেখ করেছে যে, ট্রাম্প নিজের খেয়ালখুশি মতো যে যুদ্ধ শুরু করেছিলেন, এখন সেই একই ব্যক্তিগত খামখেয়ালিপনার কারণে তিনি নিজেই বড় ধরনের রাজনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
দ্য আটলান্টিকের ওই রাজনৈতিক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রায়ই তার পূর্বসূরি মার্কিন প্রেসিডেন্টদের প্রকাশ্যে “বোকা” এবং নিজেকে অত্যন্ত “বুদ্ধিমান” বলে বিশ্বমঞ্চে জাহির করতেন। তবে ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায়, জিমি কার্টার, রোনাল্ড রিগ্যান থেকে শুরু করে জো বাইডেন পর্যন্ত বিগত সব মার্কিন প্রেসিডেন্টরা ইরানের সঙ্গে বড় ধরনের কোনো সংঘাত বা পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ শুরু না করার এক দূরদর্শী সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
আমেরিকার আগের সব প্রশাসন ও নীতি-নির্ধারকেরা খুব ভালোভাবেই বুঝতে পেরেছিলেন যে, ইরানের সঙ্গে সরাসরি কোনো বড় আকারের যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া যুক্তরাষ্ট্রের জন্য দীর্ঘমেয়াদে অত্যন্ত জটিল ও মারাত্মক ব্যয়বহুল হতে পারে। কিন্তু ট্রাম্প সেই দীর্ঘমেয়াদি ভূরাজনৈতিক হিসাব-নিকাশকে তোয়াক্কা না করেই নিজের ব্যক্তিগত অহংবোধ থেকে এই সংঘাতের সূচনা করেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ট্রাম্প যুদ্ধের শুরুতে ইরানের কাছে অত্যন্ত অহংকারের সঙ্গে “নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ” দাবি করেছিলেন। তবে বর্তমানে দুই দেশের চলমান সংকট নিরসনে যে কূটনৈতিক সমঝোতা নিয়ে আলোচনা চলছে, তা ওয়াশিংটনের চেয়ে তেহরানের শর্ত ও দাবির দিকেই বেশি ঝুঁকে আছে বলে মনে হচ্ছে। ফলে এই যুদ্ধের কারণে দিনশেষে আমেরিকার স্বার্থই বেশি ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন।
