ইরানের সদ্যপ্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির স্মরণে একটি অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণ ও ঐতিহাসিক রাষ্ট্রীয় জানাজার প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে দেশটির সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ। তবে বর্তমান আঞ্চলিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে এই বিশেষ অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠানটি ঠিক কোন তারিখে অনুষ্ঠিত হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি। শনিবার (৩০ মে) ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ‘টাইমস অব ইসরায়েল’ এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
এর আগে শুক্রবার (২৯ মে) ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের এক জরুরি প্রতিবেদনে জানানো হয়, সর্বোচ্চ নেতার জানাজা ও স্মরণসভার সার্বিক আয়োজন সুচারুভাবে সম্পন্ন করতে রাষ্ট্রীয়ভাবে একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটির অধীনে দেশের বিভিন্ন সরকারি দফতর, নিরাপত্তা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো ইতিমধ্যে মাঠপর্যায়ে প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা ও সুরক্ষামূলক প্রস্তুতির কাজ শুরু করে দিয়েছে।
কৌশলগত সূত্র অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের প্রথম দফায় বিমান হামলায় নিহত হন খামেনি সিনিয়র। তিনি দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে অত্যন্ত শক্ত হাতে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন। ওই একই বিমান হামলায় গুরুতর আহত হন তাঁর ছেলে ও পরবর্তী সম্ভাব্য উত্তরসূরি মুজতাবা খামেনি, যিনি দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির কারণে প্রকাশ্যে খুব কমই এসেছেন।
মূলত চলমান তীব্র যুদ্ধ ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণেই আয়াতুল্লাহ খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজা ও দাফন প্রক্রিয়া আয়োজন দীর্ঘ সময় ধরে বারবার পিছিয়ে যায়। পরবর্তীতে এপ্রিল মাসে তাঁর স্মরণে তেহরানে একটি সীমিত পরিসরে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান আয়োজন করা সম্ভব হলেও, দেশি-বিদেশি প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে কোনো পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্রীয় জানাজা বা শেষকৃত্য এখনো পর্যন্ত সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি।
দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেলগুলো জানিয়েছে, সরকারের বিভিন্ন সংস্থা ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী রাজধানীর সার্বিক নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় পরিবেশ নিশ্চিত করতে দিনরাত কাজ করছে। তাদের লক্ষ্য হলো, সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক তারিখ ঘোষণা করার পর যেন একটি নজিরবিহীন ‘জাঁকজমকপূর্ণ’ রাষ্ট্রীয় বিদায় অনুষ্ঠান আয়োজন করা যায়, যেখানে দেশের কোটি মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে।
এদিকে, গত এপ্রিল মাস থেকে আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতায় কার্যকর হওয়া একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি এখনো পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যে মোটামুটি বহাল রয়েছে। তবে যুদ্ধবিরতি চললেও ইরান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যেকার দীর্ঘদিনের সংঘাতের স্থায়ী কোনো রাজনৈতিক সমাধান বা চূড়ান্ত সমঝোতা না হওয়ায় পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনো বেশ থমথমে ও সংবেদনশীল অবস্থায় রয়েছে।
