যুক্তরাষ্ট্রের ‘ইরান যুদ্ধে জড়ানো উচিত হয়নি’ বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে যুদ্ধের তীব্র সমালোচনা করলেও তিনি দাবি করেছেন যে, গত বছরের জুনে মার্কিন বাহিনীর পক্ষ থেকে ওই আগাম হামলা চালানো না হলে তেহরান এতোদিনে পারমাণবিক অস্ত্র বানিয়ে ফেলতো।
আমেরিকার এই সামরিক পদক্ষেপের পক্ষে যুক্তি দিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, আজ থেকে ঠিক নয় মাস আগে মার্কিন বি-২ বোমারু বিমান দিয়ে ইরানের ওপর সুনির্দিষ্ট আঘাত না হানলে, এখনই তাদের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র থাকতো। অর্থাৎ মার্কিন বিমান হামলার কারণেই ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে পারেনি বলে তিনি মনে করেন।
চলতি পরিস্থিতিতে ইরানি সামরিক বাহিনীকে আর নতুন করে ‘ঘাঁটানো হচ্ছে না’ বা উস্কানি দেওয়া হচ্ছে না বলে ট্রাম্প পরিষ্কার জানিয়েছেন। এর পাশাপাশি তিনি মন্তব্য করেন যে, যুদ্ধে কোনো পক্ষকে পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন করে দেওয়াটা একটি বড় ভুল সিদ্ধান্ত, কারণ এর ফলে যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি দেশ পরবর্তী ৪০ বছরেও সহজে ঘুরে দাঁড়াতে পারে না।
ইরানের সঙ্গে একটি নতুন দ্বিপক্ষীয় চুক্তির বিষয়ে নিজের ব্যক্তিগত কোনো তাড়া বা তাগিদ নেই বলেও স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম অনবরত বাড়তে থাকলে সেটা একপর্যায়ে সাধারণ মানুষের সহ্যের বাইরে চলে যেতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। তাই কেবল জ্বালানির দাম কমানোর স্বার্থেই একটি চুক্তির তাড়া রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
পরিশেষে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব কূটনৈতিক দর্শন তুলে ধরে বলেন, যেকোনো বড় আন্তর্জাতিক বিষয়ে তড়িঘড়ি বা তাড়াহুড়ো করলে শেষ পর্যন্ত ভালো কোনো চুক্তি আদায় করা সম্ভব হয় না। তাই তিনি ইরানের সাথে একটি কার্যকর ও টেকসই চুক্তি সম্পাদনের জন্য ধীরে চলো নীতিতেই এগোতে চান।
