পুলিশের তীব্র বাধা ও লাঠিচার্জের মুখে মানববন্ধন ভণ্ডুল হওয়ার পর ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যানের নিয়োগ বাতিলের দাবিতে আবারও উত্তাল হয়ে উঠেছে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় এলাকা। সোমবার সকাল থেকেই ‘ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরাম’-এর ব্যানারে সদস্যরা ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। নতুন চেয়ারম্যানের পদত্যাগের পাশাপাশি আন্দোলনকারী নেতারা এবার আরও বেশ কিছু নতুন দাবি উত্থাপন করেছেন।
বিক্ষোভ সমাবেশে ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরামের সভাপতি নুরুন নবি মানিক সুনির্দিষ্টভাবে নতুন চেয়ারম্যানের নিয়োগ বাতিলের পাশাপাশি ব্যাংকের আগের এমডি ওমর ফারুককে পুনরায় সপদে ফিরিয়ে আনার জোর দাবি জানান। এ সময় আন্দোলনকারী অন্য বক্তারা এস আলম গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলমকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার নিশ্চিত করা এবং তাঁর পাচার করা সমস্ত টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত আনার দাবি তোলেন। একই সাথে ইসলামী ব্যাংকে খুরশীদ আলমকে বিতর্কিতভাবে চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দেওয়ার দায়ে বর্তমান গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের অবিলম্বে পদত্যাগ দাবি করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আন্দোলনকারীদের সড়ক থেকে সরিয়ে দিতে পুলিশ সতর্ক অবস্থান থেকে আচমকা এগিয়ে যায়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হলে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ওপর লাঠিচার্জ শুরু করে। পরবর্তীতে তাঁদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ জলকামান ও টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করলে পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে পুলিশের বলপ্রয়োগের মুখে সাময়িকভাবে ছত্রভঙ্গ হলেও কিছু সময় পর আন্দোলনকারীরা আবারও ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের আশপাশে অবস্থান নেন, যা আজ সন্ধ্যা পর্যন্ত চলার কথা রয়েছে।
ব্যাংকটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঈদের ছুটির মধ্যেই দেশের বিভিন্ন স্থানে ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরামের ব্যানারে এই নিয়োগের বিরুদ্ধে নানা কর্মসূচি পালন হয়ে আসছিল এবং তারই ধারাবাহিকতায় আজকের এই বৃহৎ সমাবেশ আহ্বান করা হয়। উল্লেখ্য, গত ১১ মে ঈদের আগের শেষ কর্মদিবসে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়োগ দেওয়া স্বতন্ত্র পরিচালক অধ্যাপক এম জুবায়দুর রহমান আকস্মিকভাবে পদত্যাগ করার মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ওই দিন রাত ৯টায় সাবেক ডেপুটি গভর্নর মো. খুরশীদ আলমকে নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
