বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের গেজেট অনুযায়ী, মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হওয়া মোট মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ৬,৪৮০ জন। তবে স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে রক্ষীবাহিনীর কার্যক্রম নিয়ে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন ও গবেষকদের মধ্যে তীব্র বিতর্ক রয়েছে।
বিভিন্ন গবেষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৎকালীন রক্ষীবাহিনীর হাতে নিহত মানুষের সংখ্যা ১০ হাজার থেকে শুরু করে ৬০ হাজার পর্যন্ত হতে পারে। অভিযোগ রয়েছে যে, এদের মধ্যে অন্তত অর্ধেকই ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা।
হায়দার আকবর খান রনো, আহমদ মুসা, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, মহিউদ্দিন আহমেদ, আল মাহমুদ, তালুকদার মনিরুজ্জামান, মাওলানা ভাসানী, বদরুদ্দীন উমর এবং এন্থনি মাসকারেনহাসের মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের লেখায় এই সময়কালের বিভিন্ন বিবরণ ও সমালোচনা উঠে এসেছে।
তৎকালীন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তোফায়েল আহমেদ এই রক্ষীবাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সেই সময়ে জাসদ দমনের নামে দেশের বিভিন্ন গ্রামে রক্ষীবাহিনীর হানা দেওয়া, পুরো এলাকা ঘেরাও করা এবং সাধারণ মানুষের ওপর নির্যাতন ও ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধের অভিযোগও তাঁদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত হয়েছিল।
সমালোচকদের দাবি, সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের সেনাবাহিনীকে ভারত পুরোপুরি বিশ্বাস করতে না পারায় বাংলাদেশ সৃষ্টির পরপরই তোফায়েল আহমেদের মাধ্যমে রক্ষীবাহিনী গঠন করা হয়। মূলত বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভারতের অনুগত একটি প্যারামিলিটারি ফোর্স গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে গঠিত এই বাহিনীর ট্রেইনিং, ডকট্রিন এবং কমান্ড কন্ট্রোল মূলত ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ (R&AW) পরিচালনা করত বলে অভিযোগ রয়েছে।
রক্ষীবাহিনীর প্রধান হিসেবে এই সমস্ত কর্মকাণ্ড ও বিতর্কিত অধ্যায়ে তোফায়েল আহমেদের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত অগ্রগণ্য। এমনকি, যে শেখ মুজিবকে রক্ষা করা এই রক্ষীবাহিনীর অন্যতম প্রধান ও পবিত্র দায়িত্ব ছিল, ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট তাঁকে যখন সপরিবারে হত্যা করা হয়, তখন রক্ষীবাহিনীর প্রধান তোফায়েল আহমেদ কোনো প্রতিরোধ না গড়ে নিরাপদে সরিয়ে যান বা পালিয়ে যান বলে ইতিহাসবিদ ও সমালোচকেরা উল্লেখ করে থাকেন।
এই সমস্ত গুরুতর ও বিতর্কিত রাজনৈতিক ইতিহাস থাকা সত্ত্বেও বর্তমানের দেশীয় মূলধারার বা মেইনস্ট্রিম গণমাধ্যমগুলো তোফায়েল আহমেদকে একজন ‘বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ’ হিসেবে উপস্থাপন করে চলেছে।
