জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ আজ অনুষ্ঠিত হবে। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সাধারণ পরিষদ হলে স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় শুরু হবে এই নির্বাচন। এতে বাংলাদেশের প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ সাইপ্রাস।
বাংলাদেশের পক্ষে প্রার্থী হয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। অন্যদিকে সাইপ্রাসের প্রার্থী দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী সচিব আন্দ্রেয়াস এস. কাকোরিস।
জাতিসংঘের আঞ্চলিক রোটেশন নীতি অনুযায়ী এবারের সভাপতি পদটি এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপের জন্য বরাদ্দ। ভৌগোলিকভাবে ইউরোপে অবস্থিত হলেও সাইপ্রাস জাতিসংঘের কূটনৈতিক কাঠামোয় এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপের সদস্য। শুরুতে ফিলিস্তিনও এ পদে প্রার্থী ছিল। তবে মুসলিম দেশগুলোর ভোট বিভক্ত হওয়ার আশঙ্কা এবং বাংলাদেশের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কের কথা বিবেচনায় নিয়ে তারা নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ায়।
ড. খলিলুর রহমানকে এ নির্বাচনে শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। বাংলাদেশ ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি দেশের আনুষ্ঠানিক সমর্থন পেয়েছে। সমর্থনদানকারী দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে ব্রাজিল, আলজেরিয়া, সৌদি আরব, পাকিস্তান, তুরস্ক, গাম্বিয়া ও লিবিয়া। প্রায় চার দশক পর বাংলাদেশ আবারও এ পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। এর আগে ১৯৮৬ সালে জাতিসংঘের ৪১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন বাংলাদেশের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভোটের শেষ মুহূর্তে বাংলাদেশ কূটনৈতিক তৎপরতা আরও জোরদার করেছে। সদস্য রাষ্ট্রগুলোর ভোটের হিসাব-নিকাশে বিভিন্ন কৌশলগত, রাজনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক বিষয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ফলে নির্বাচনের আগে উভয় প্রার্থীপক্ষের শেষ মুহূর্তের প্রচার-প্রচারণা ও যোগাযোগ কার্যক্রম বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
যদিও বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্যসংখ্যক সদস্য রাষ্ট্রের সমর্থন অর্জন করেছে, তবুও প্রচারণার জন্য তুলনামূলক কম সময় পাওয়ায় কিছু চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। সাইপ্রাস প্রায় এক বছর ধরে প্রচার চালানোর সুযোগ পেলেও বাংলাদেশ কার্যত তিন মাস বা তারও কম সময় পেয়েছে।
কর্মকর্তারা বলছেন, জয়ের বিষয়ে আশাবাদী হওয়ার যথেষ্ট কারণ থাকলেও এ মুহূর্তে নিশ্চিত কোনো পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব নয়। কারণ, নির্বাচনটি গোপন ব্যালটের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হবে এবং ভোটার দেশগুলোর সিদ্ধান্ত কেবল তারাই জানে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন আগামী ৮ সেপ্টেম্বর শুরু হবে। ২২ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্ক। কার্যপ্রণালির ৩০ নম্বর বিধি অনুসারে এ অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচন করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহল ও পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টি এখন এই নির্বাচনের দিকে। ড. খলিলুর রহমান নির্বাচিত হলে জাতিসংঘের ১৯৩ সদস্য রাষ্ট্রের এই সর্বজনীন ফোরামে বাংলাদেশ আরও শক্তিশালী অবস্থান লাভ করবে। একই সঙ্গে শান্তি, টেকসই উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থা সংক্রান্ত আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার সুযোগ সৃষ্টি হবে।
সম্প্রতি এক অনানুষ্ঠানিক সংলাপে ড. খলিলুর রহমান প্রতিশ্রুতি দেন, নির্বাচিত হলে তিনি পূর্ণকালীন সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন এবং সব সদস্য রাষ্ট্রের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করবেন। তিনি বলেন, জাতিসংঘ সনদের মূল্যবোধ সমুন্নত রাখতে তিনি অঙ্গীকারবদ্ধ এবং বিশেষ করে ছোট প্রতিনিধিদলগুলোর মতামত ও প্রয়োজনের প্রতি গুরুত্ব দেবেন।
তিনি আরও বলেন, ‘আমি প্রথম দিন থেকেই আপনাদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনে সক্ষম, আগ্রহী এবং সম্পূর্ণ প্রস্তুত।’
