মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ডে লাগা আগুনের ঘটনাটি নৌবাহিনী প্রথমে যা বলেছিল, তার চেয়ে অনেক বেশি ভয়াবহ ছিল বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম সিএনএন। ২০২৬ সালের মার্চ মাসে ঘটা এই অগ্নিকাণ্ডের এক্সক্লুসিভ ফুটেজ প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
তদন্তে জানা গেছে, এই রণতরীর আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল মূলত জাহাজের লন্ড্রি বা কাপড় ধোয়ার বিভাগ থেকে। তবে আগুন লাগার পর জাহাজের মূল অগ্নি-নির্বাপণ ব্যবস্থা সঠিকভাবে কাজ না করায় পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। এর ফলে নাবিকদের চরম ঝুঁকির মধ্যে টানা ৩০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে সম্পূর্ণ নিজস্ব প্রচেষ্টায় হাতে আগুন নেভাতে হয়।
ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় জাহাজের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং প্রায় ৬০০ নাবিক তাদের আবাসন বা থাকার জায়গা হারান। সে সময় রণতরীর ভেতরে থাকা পরিস্থিতি বর্ণনা করতে গিয়ে এক নাবিক জানান, তখন তাঁদের সামনে “লড়াই করো, নতুবা মারা যাও” এমন এক বিভীষিকাময় অবস্থা তৈরি হয়েছিল।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে এবং কেউ কেউ এটিকে ইরানের হামলা বলে দাবি করছেন। তবে সিএনএন ও মার্কিন নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে এই দাবি নাকচ করে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, এটি সম্পূর্ণই লন্ড্রি এলাকায় শুরু হওয়া একটি দুর্ঘটনাজনিত অগ্নিকাণ্ড ছিল।
এই দুর্ঘটনার ধাক্কা কাটিয়ে রণতরীটিকে আবারও বড় ধরনের কোনো অভিযানের বা মোতায়েনের জন্য প্রস্তুত করতে মার্কিন নৌবাহিনীর কমপক্ষে আরও এক বছর সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
