বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ১৩০ কোটি ডলার থেকে বাড়িয়ে ২০০ কোটি ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে তুরস্ক। এ লক্ষ্যে সম্ভাব্য বিভিন্ন উপায় খুঁজে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান।
শুক্রবার ঢাকায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠকের পর যৌথ ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।
এশিয়ার বিভিন্ন দেশ সফরের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার তিন দিনের সফরে ঢাকায় আসেন হাকান ফিদান। শুক্রবার সকালে ঢাকার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশ-তুরস্ক সম্পর্ক, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোতে সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়।
হাকান ফিদান বলেন, দীর্ঘদিনের অংশীদারত্বকে আরও শক্তিশালী ও দূরদর্শী পর্যায়ে নিতে উভয় দেশ কাজ করছে। বিশেষ করে প্রতিরক্ষা শিল্পসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ গ্লোবাল সাউথের একটি শক্তিশালী কণ্ঠস্বর এবং দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতা, শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ দেশ।
বৈঠকে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বিভিন্ন ইস্যুতে অভিন্ন অবস্থান এবং পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদারের বিষয়ে একমত হয় বাংলাদেশ ও তুরস্ক।
রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এখনও বড় মানবিক দায়িত্ব পালন করছে। রোহিঙ্গা সংকটকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরতে তুরস্ক কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
বৈঠকের পর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়। তুরস্কের পক্ষে হাকান ফিদান এবং বাংলাদেশের পক্ষে সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী চুক্তিতে সই করেন।
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দুই দেশের মধ্যে গভীর ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে। ভবিষ্যতেও দক্ষিণ এশিয়ার শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির জন্য একসঙ্গে কাজ করবে দুই দেশ।
