সৌদি আরবে ভারতের নতুন রাষ্ট্রদূত হিসেবে শ্রী বিপুলের নিয়োগ দেশটির কূটনৈতিক ইতিহাসে একটি ঐতিহাসিক পরিবর্তনের সূচনা করেছে। ১৯৪৮ সালে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার পর এই প্রথম কোনো অমুসলিম কূটনীতিককে রিয়াদে ভারতের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে নয়াদিল্লি।
বিশ্লেষকদের মতে, এই নিয়োগ শুধু কূটনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকেই নয়, বরং এর প্রতীকী তাৎপর্যের কারণেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ভারতের জন্য সৌদি আরবের গুরুত্ব এখন শুধু জ্বালানি তেল বা প্রবাসী শ্রমিকের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং রিয়াদ বর্তমানে ভারতের অন্যতম প্রধান কৌশলগত ও কূটনৈতিক অংশীদার।
ইসলাম ধর্মের দুই পবিত্রতম স্থানের তত্ত্বাবধায়ক সৌদি আরব বর্তমানে ‘ভিশন ২০৩০’ কর্মসূচির আওতায় বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, অবকাঠামো, সংস্কৃতি ও ভূরাজনীতির সমন্বয়ে দ্রুত বিকাশমান একটি অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে, যা ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ভারতীয় পররাষ্ট্রসেবার ১৯৯৮ ব্যাচের কর্মকর্তা বিপুল দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে দায়িত্ব পালন করেছেন। কায়রো, কলম্বো, জেনেভা ও দুবাইয়ে কাজ করার পাশাপাশি সর্বশেষ তিনি কাতারে ভারতের রাষ্ট্রদূত ছিলেন। তাঁর এই নিয়োগকে কৌশলগত অঞ্চলে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, জ্যেষ্ঠতা ও দক্ষতার স্বীকৃতি হিসেবে দেখছেন ভারতীয় পর্যবেক্ষকরা。
স্বাধীনতার পর থেকে নয়াদিল্লি মূলত হজ ব্যবস্থাপনার বাস্তব প্রয়োজনেই সৌদি আরবে মুসলিম রাষ্ট্রদূত বা জেদ্দায় কনসাল জেনারেল নিয়োগ দিত। প্রতি বছর ভারত থেকে প্রায় পৌনে দুই লাখ মুসলমান হজে যান। যেহেতু অমুসলিমদের জন্য হজের নির্দিষ্ট পবিত্র এলাকাগুলোতে প্রবেশের অনুমতি নেই, তাই অতীতে বিভিন্ন সংকট ও সমন্বয়ের খাতিরে মুসলিম কূটনীতিকদের অগ্রাধিকার দেওয়া হতো।
তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সৌদি আরবে দায়িত্ব পালনের জন্য উপযুক্ত মুসলিম কূটনীতিকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এই সংকটের কারণে অতীতে কখনও রাষ্ট্রদূতদের মেয়াদ বাড়াতে হয়েছে, আবার কখনও ২০১৬ সালে মুম্বাই পুলিশের সাবেক কমিশনার আহমদ জাভেদের মতো কূটনৈতিক ক্যাডারের বাইরের ব্যক্তিদেরও নিয়োগ দিতে হয়েছে।
নতুন রাষ্ট্রদূত বিপুল এমন এক জটিল সময়ে দায়িত্ব নিচ্ছেন, যখন ইরানকে ঘিরে আঞ্চলিক উত্তেজনার পাশাপাশি সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রতিযোগিতা ক্রমশ বাড়ছে। এই কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও জ্বালানি নিরাপত্তা, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, বৃহৎ বিনিয়োগ এবং লাখো প্রবাসীর কল্যাণের মতো গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়াই হবে তাঁর মূল চ্যালেঞ্জ।
